আন্তর্জাতিক

হড়পা বানে তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন ২৬১ জন বিদেশি, পরিসংখ্যান দিল চিন

চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন) জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেপালের নাগরিক।

Truth of Bengal: নেপালের পাশাপাশি ভয়াবহ হড়পা বানের ধাক্কায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চিনের তিব্বতেও। তবে তিব্বতের বিপর্যয়ের ছবি ও ভিডিয়ো প্রকাশ্যে না আসায় শুরু থেকেই চিনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠছিল। এর মধ্যেই রবিবার তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করল চিন সরকার। সরকারি হিসাবে, তিব্বতে এখনও পর্যন্ত ৫৫৮ জন নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।

চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন) জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেপালের নাগরিক। তাঁদের সংখ্যা ১০৪। এ ছাড়া ৪৯ জন ভারতীয়, ১৮ জন আমেরিকান এবং ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিকেরও এখনও খোঁজ মেলেনি। লাতভিয়ার ৩৩ জন নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ছাড়াও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন মালয়েশিয়ার ৩ জন, কাজ়াখস্তানের ১ জন, দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ জন, আয়ারল্যান্ডের ২ জন, ফ্রান্সের ২ জন, জার্মানির ৩ জন, রাশিয়ার ৩ জন, নেদারল্যান্ডসের ২ জন, ইউক্রেনের ১ জন, পর্তুগালের ১ জন, কানাডার ৬ জন, স্পেনের ১ জন, হাঙ্গেরির ১ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৬ জন এবং নিউজ়িল্যান্ডের ২ জন নাগরিক। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির দূতাবাস ও উপদূতাবাসকে নিখোঁজ নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চিনা কর্তৃপক্ষ।

চিনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তিব্বতে এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিব্বত সীমান্তের গিরং কাউন্টিতে, যেখানে হড়পা বান আছড়ে পড়েছিল, সেখানে বর্তমানে আর কোনও বিদেশি নাগরিক আটকে নেই।

গত বুধবার সকালে হিমবাহ ভেঙে যাওয়ার জেরে নেপালের ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীতে আচমকা জলস্তর বেড়ে যায়। কাদামাটি, বরফগলা জল এবং প্রবল স্রোতে ভেসে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। ধ্বংস হয়ে যায় একের পর এক গ্রাম, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট। নেপালে রবিবার সকাল পর্যন্ত ৭৩৪ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২,৪৯৮ জন। তাঁদের মধ্যে বহু ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া বহু পুণ্যার্থী ও পর্যটকও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।

একই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে তিব্বতেও। কিন্তু নেপালের মতো তিব্বতের ধ্বংসযজ্ঞের ছবি বা ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসেনি। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বন্যার তাণ্ডব, দুর্গতদের দুরবস্থা এবং সাহায্যের আর্তি সংক্রান্ত একাধিক ভিডিয়ো চিনা সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে তিব্বতের পরিস্থিতি নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠেছে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চিন সরকারের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন। সেই অনুমতি না মেলায় স্বাধীন ভাবে পরিস্থিতি যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফলে তিব্বতের বিপর্যয়ের প্রকৃত চিত্র জানতে চিনের সরকারি সূত্রের তথ্যের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। এই আবহেই রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিদেশি নাগরিকদের নিখোঁজের পরিসংখ্যান প্রকাশ করল বেজিং।

Related Articles