কলকাতা

শুভেন্দুর হুঁশিয়ারিতেই কাজ! যাদবপুরে রাতারাতি উধাও ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন

রাতারাতি সাফাই অভিযান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে! দেওয়ালে কারচুপি মুছল কারা? শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে!

Truth of Bengal: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি ও আল্টিমেটামের পর অবশেষে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা একাধিক ‘বিতর্কিত’ ও ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি রাতারাতি মুছে ফেলা হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্লকের দেওয়ালে প্রলেপ দিয়ে সাদা রং করে দেওয়া হয়। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এই ‘সাফাই অভিযান’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-এর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেই উদ্যোগ নিয়ে এই বিতর্কিত লেখাগুলি মুছে দিয়েছে, যদিও এই বিষয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার। নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া সুরে বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ‘রেড স্যালুট কিষেনজি’ বা এই ধরণের কোনও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান বরদাস্ত করা হবে না। আমাদের কাছে প্রতিটি ঘটনার নথি ও তথ্য রয়েছে। দ্রুত উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, কলা বিভাগের হোস্টেলের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও তাঁর দফতরে (CMO) পৌঁছানোর পর তা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (VC) কাছে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর পরেই নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে ক্যাম্পাসের বিতর্কিত গ্রাফিতির ভিডিও পোস্ট করে দ্রুত পদক্ষেপের বার্তা দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর মঙ্গলবারই কলা বিভাগের হোস্টেল চত্বরে থাকা কিছু বিতর্কিত দেওয়াল লিখন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ঢেকে দিয়েছিল বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)। তবে বিতর্ক থামেনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিকাঠামো পরিচ্ছন্ন করার ও সমস্ত ‘আপত্তিকর’ গ্রাফিতি মোছার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হিসেবেই শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে থাকা একের পর এক বিতর্কিত লেখা সাদা রঙে ঢেকে দেওয়া হয়।

ক্যাম্পাসের অন্দরে এখনও এমন বহু দেওয়াল লিখন রয়ে গিয়েছে। সেগুলি কত দ্রুত মোছা হবে, তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। এবিভিপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র কয়েকটি দেওয়ালে সাদা রং করা যথেষ্ট নয়, ক্যাম্পাসের সমস্ত ‘দেশবিরোধী’ চিহ্ন ও স্লোগান দ্রুত মুছে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে।

Related Articles