সুপার কাপের প্রথম ম্যাচেই ডেম্পোর কাছে আটকে গেল ইস্টবেঙ্গল
শনিবার ইস্টবেঙ্গলের থেকে ধারে-ভারে পিছিয়ে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে বাজিমাত করল সমীর নায়েকের ডেম্পো।
Truth Of Bengal: চলতি মরসুমের সুপার কাপে শনিবারই নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ইমামি ইস্টবেঙ্গল। প্রতিপক্ষ ছিল ডেম্পো স্পোর্টস ক্লাব। অতীতে গোয়ার এই ক্লাবটি ছিল কলকাতার ক্লাবগুলির কাছে শক্ত গাঁট। কিন্তু বর্তমানে বেশ কয়েক বছর ভারতীয় ফুটবলের মূল স্রোত থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়ে ক্লাবটির কর্তারা জোড় দিয়েছিলেন ইয়ুথ ডেভলপমেন্ট ফুটবলের দিকে। এরপর আবার তাঁদের লক্ষ্য হচ্ছে ধীরে ধীরে ভারতীয় ফুটবলের মূল স্রোতে ফিরে আসা। সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রায় কয়েক কোটি টাকার টিম ইমামি ইস্টবেঙ্গলকে রুখে দিল ডেম্পো। খেলার ফল ২-২।
শনিবার ইস্টবেঙ্গলের থেকে ধারে-ভারে পিছিয়ে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে বাজিমাত করল সমীর নায়েকের ডেম্পো। ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে সাংবাদিক সম্মেলনে যে লড়াইয়ের বার্তা ডেম্পোর কোচ দিয়েছিলেন ম্যাচে সে কথা মেনেই লড়াই করলেন তাঁর ফুটবলাররা। অপর দিকে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার ফল ভোগ করল অস্কারের ইস্টবেঙ্গল।
লাল-হলুদ কোচ অস্কার তাঁর দলকে সাজিয়েছিলেন ৪-৩-৩ পদ্ধতিতে। গোলে গিলের জায়গায় দেবজিৎকে রেখে বাকি দল ছিল, আনোয়ার, কেভিন, রাকিপ, জয়, মহেশ, রশিদ, সউল বিপিন, হিরোশি এবং হামিদ। ম্যাচের শুরুতেই জয়, বিপিন আবার কখনও মহেশের গতিকে কাজে লাগিয়ে আক্রমণে ঢেউ তোলে মশাল ব্রিগেড। এই অর্ধের শুরুতেই গোলের দেখা পেয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু কপাল খারাপ তাদের। মহেশের মাইনাশে হিরোশি পা ঠেকালেও, তা পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তারপরও ক্রমাগত ডেম্পো রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তুললেও কাঙ্খিত গোলের দেখা মিলছিল না কিছুতেই।
অপর দিকে গোয়ার দলটি এই সময় লাল-হলুদ আক্রমণে কিছুটা বেসামাল হয়ে পড়লেও, মাঝে মাঝেই কাউন্টার অ্যাটাকে আসার চেষ্টা থাকে তারাও। কিন্তু আনোয়ার-কেভিন জুটিকে ভেদ করা তাদের পক্ষে সেই সময় সম্ভব হয়নি। অবশ্য ম্যাচে প্রথম গোলের স্বাদ পায় তারাই। ম্যাচের ২৭ মিনিটে লাল-হলুদ বক্সের বাইরে থেকে ফ্রিকিক পায় পাঁচবারের ভারতসেরা দলটি। সেখান থেকে উড়ে আসা বলে ফ্লাইট মিস করেন দেবজিৎ। এবং ফলে সেখান থেকে বল পেয়ে ডেম্পোকে এগিয়ে দেন মহম্মদ আলি।
এরপর বিরিতি থেকে ফিরেই ছক পরিবর্তন করেন অভিজ্ঞ অস্কার। জয় গুপ্তা, রাকিপকে তুলে মাঠে নামান মিগুয়েল, নুঙ্গাকে। এই অর্ধে তিন ডিফেন্ডারে গিয়ে আক্রমণ ও মাঝমাঠে লোক বাড়িয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করেন অস্কার। এবং ফলও পান হাতেহাতে। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা তখন এক মিনিটও হয়নি। মরক্কোর স্ট্রাইকার হামিদের শট ডেম্পো গোলরক্ষকের হাতে লেগে বল মহেশের কাছে আসতেই তা থেকে ইস্টবেঙ্গলকে সমতায় ফেরান মহেশ। এরপর গোলের আরও সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি মশাল ব্রিগেড। কিন্তু প্রথম গোলের মিনিট দশেক পর লাল-হলুদের হয়ে দুরন্ত গোল করেন ব্রাজিলিয়ান মিডিও মিগুয়েল। নুঙ্গার কাছ থেকে বল পেয়ে মিগুয়েল ডেম্পো বক্সে ঢুকে জিরো ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল থেকে কোণাকুণি শটে যে গোল করলেন তা এক কথায় অনবদ্য।
এই গোলের পরও ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু তারা তা কাজে লাগাতে পারেনি। অস্কার ডেভিড, এডমুন্ড, এমনকি নন্দকুমারকেও নামিয়েছিলেন ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যে। কিন্তু তা আর হল না। অপর দিকে প্রতিপক্ষ ডেম্পো নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে ডেম্পোকে সমতায় ফেরান রেন। তারপর মিনিট পাঁচেক অতিরিক্ত সময় পেলেও জয়ের গোল পেল না ইস্টবেঙ্গল।






