ডায়মন্ড সিটি ওয়েস্টে সিঁদুরখেলায় মাতলেন মহিলারা
উদ্যোক্তারা বলছেন, মা চলে যাচ্ছেন এটা ভাবতে পারছি না, মনটা বিষণ্ণতায় ভরে গেছে।
শ্রীজিতা ঘোষ, কলকাতা: বিজয়া দশমীতে উমার ঘরে ফেরার পালা। শুভেচ্ছা বিনিময়ের মতোই বিদায়বেলায় গৃহলক্ষ্মীরা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। বেহালার ডায়মন্ড সিটি ওয়েস্টের মহিলারা, দেবীবরণের পাশাপাশি লাল সিঁদুরে রঙিন হয়ে ওঠেন। ঢাকের বোল ফুটিয়ে নজর কাড়ে নারীশক্তি। উদ্যোক্তারা বলছেন, মা চলে যাচ্ছেন এটা ভাবতে পারছি না, মনটা বিষণ্ণতায় ভরে গেছে। পবিত্র সিঁদুরে নারীকল্যাণের বন্ধনকে আলাদা মাত্রা দেয়।
প্রাণের পুজোয় পাঁচদিন মেতে ওঠে আমবাঙালি। উচ্ছ্বাসের ছন্দে মাতোয়ারা হন বাড়ি থেকে বারোয়ারি পুজোর উদ্যোক্তারা। আড়ম্বরের সঙ্গে পুজো করেন বেহালার ডায়মন্ড সিটি ওয়েস্টের আবাসিকরা। আড্ডা-আলাপনের পাশাপাশি আবাসিক মহিলাদের জমিয়ে পুজো উপভোগ বিশেষ নজর কাড়ে। আর বিজয়া দশমীতে সিঁদুরখেলায় যাঁরা অংশ নেন তাঁরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন।
উমার কৈলাসে ফেরার বিদায়বেলায় যেন বিষাদ ছায়া ফেলে মর্ত্যের এইসব দুর্গাদের মনে। দশমীতে যেভাবে বাংলার নারীরা ঢাকের বাদ্যি, উলুধ্বনি আর সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন, সেভাবেই এই অভিজাত আবাসনের বাসিন্দারাও শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টিমুখ করেন। ধর্মপ্রাণ মানুষ বলেন, সিঁদুর হল ব্রহ্মার প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, ব্রহ্মা জীবনের সমস্ত কষ্ট দূর করে আনন্দে ভরে রাখেন মর্ত্যের বাসিন্দাদের। হিন্দু ধর্মে মনে করা হয়, সিঁথিতে সিঁদুর পরলে কপালে ব্রহ্মা অধিষ্ঠান করেন। এই কারণে দশমীর দিন সিঁদুর খেলার এই প্রচলন বলে মনে করেন অনেকে।
আমবাঙালির কাছে উমা ঘরের মেয়ে। মা, মর্ত্য ছেড়ে চলে যাওয়ায় মন ভারাক্রান্ত। চোখের কোণ চিকচিক করছে। মাতৃপ্রতিমাকে রীতি মেনে বিসর্জন দিতেই হয়, ঘরের মেয়ে চলে যাওয়ায় বিষাদ রয়েছে। তবু তাঁরা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে মেতে ওঠেন। বিজয়া দশমীর দিন বৃষ্টি। ডায়মন্ড সিটি ওয়েস্টের আবাসিক মধুমিতা মুখোপাধ্যায় বললেন, মা যাওয়ার সময় কাঁদছেন, তাই এত বৃষ্টি। মনে হচ্ছে আজ মায়ের বড় দুঃখ হচ্ছে।
২০০৯ থেকে অভিজাত এই আবাসনে দুর্গাপুজো শুরু হয়। ১৫টি পরিবার মিলে পুজো শুরু করে। সাবেকি প্রথায় পুজোর আয়োজন করেন আবাসিকরা। এবার তাঁদের থিম – স্বস্তিক, যার অর্থ শুভ। মহিলারাই মূলত পুজোর ব্যবস্থা করেন, মণ্ডপসজ্জা থেকে কারুকাজ, সবেতেই বাস্তবের দুর্গারা সাড়া ফেলেন। এই পুজোর সেক্রেটারি সিদ্ধেশ্বর ঘোষ বললেন, এবার আবার সামনের বারের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। কীভাবে মাকে সাজাবো, সেই চেষ্টাই থাকে আমাদের। মনটা এবার খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
ডায়মন্ড সিটি ওয়েস্টের পুজোর উৎসবের কনভেনর অনুধ্যান তালুকদার জানালেন, এই পাঁচটা দিন কীভাবে কাটে আমরাই জানি। এই সিঁদুরখেলাটা আমাদের একটা বড় রীতি, সারা বছর ধরেই আমাদের প্ল্যানিং চলে। আবার সামনের বছরের জন্য ভাবনা শুরু। এক দিকে বিসর্জন, অন্যদিকে আবাহন। বেহালার ডায়মন্ড সিটি ওয়েস্টের আবাসিকদের মায়ের কাছে একটাই প্রার্থনা, আসছে বছর আবার এসো মা।






