ভোটের ১০ দিন আগে বড় বিস্ফোরণ! কয়লা কাণ্ডে দিল্লিতে গ্রেফতার আই-প্যাক কর্তা
ইডির জালে মমতার ভোটকুশলী সংস্থার ডিরেক্টর, কয়লা পাচারের ২০ কোটির ‘হাওলা’ যোগ?
Truth of Bengal: বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ময়দানে অতিসক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জালে ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর অন্যতম ডিরেক্টর ভিনেশ চন্ডেল। সোমবার দিল্লিতে কয়লা পাচার মামলায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে বাংলার রাজনৈতিক পারদ একধাক্কায় কয়েকগুণ চড়ে গেল।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নেমে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের একাধিক তথ্য মিলেছে। অভিযোগ, হাওয়ালার মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকা লেনদেনের সঙ্গে ভিনেশ চন্ডেলের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। চলতি মাসের ২ তারিখ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। অবশেষে সোমবার তাঁকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে (PMLA) গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে ইডি। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভিনেশ চন্ডেলের এই গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আগামী পরশু অর্থাৎ বুধবার সুপ্রিম কোর্টে আই-প্যাক মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে এই পদক্ষেপে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এর আগে আই-প্যাকের আরও দুই ডিরেক্টর প্রতীক জৈন ও ঋষি রাজ সিংকেও তলব করেছিল ইডি। তবে ভোটের কাজের দোহাই দিয়ে তাঁরা হাজিরা এড়াতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, আই-প্যাক ও ইডির এই সংঘাত নতুন নয়। গত জানুয়ারি মাসে যখন প্রতীক জৈনের অফিসে ইডি অভিযান চালিয়েছিল, তখন সশরীরে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির অভিযোগ ছিল, মুখ্যমন্ত্রী তল্লাশিতে বাধা দিয়েছেন এবং তথ্য লোপাটের চেষ্টা করেছেন। পালটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল, নির্বাচনের আগে ইডি আসলে আই-প্যাকের দফতর থেকে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গোপনীয় নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই টানাপোড়েনের মাঝেই ভিনেশ চন্ডেলের গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে শাসক শিবিরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল।






