কলকাতা

Amit Shah: অমিত শাহের বৈঠকের পর দিলীপ ঘোষের ‘কামব্যাক’ স্পষ্ট হল

Truth of Bengal: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় জনতা পার্টি যাতে ১ ইঞ্চিও জমি না ছাড়ে সেই বার্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিয়েছেন। ‌ তবে সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতেই ‘ইগো’ ছাড়ার কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সকলকে নিয়ে কাজ করতে হবে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজস্ব ইগো পরিত্যাগ করে একত্রিত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন অমিত শাহ। ফলে ভারতীয় জনতা পার্টির আগামী বিভিন্ন জরুরি অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষের পুরনো ভূমিকা দেখা যেতে পারি বলেই মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডাকা বৈঠকে রাজ্য বিজেপির অন্য নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত থাকলেন দিলীপ ঘোষ। প্রায় আট মাস পরে প্রকাশ্যে কোনও দলীয় বৈঠকে তাঁকে দেখা গেল। ভোটের মুখে এই উপস্থিতিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বছরের শেষ দিনে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের একটি হোটেলে রাজ্য বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেন অমিত শাহ। সেখানে দলের প্রাক্তন সাংসদদেরও ডাকা হয়। দিলীপ ঘোষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন সিংহ, সুভাষ সরকার, নিশীথ প্রামাণিক প্রমুখ। গত কয়েক মাসে দলীয় নানা কর্মসূচিতে অন্য নেতাদের দেখা গেলেও দিলীপ কার্যত ব্রাত্যই ছিলেন।

গত এপ্রিল মাসে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ। ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকেই রাজ্য বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক থেকে শুরু করে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ স্তরের একাধিক বৈঠকে তাঁকে ডাকা হয়নি। এমনকি গত ২৫ ডিসেম্বর অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় গ্রন্থাগারে রাজ্য বিজেপির আদি নেতাদের নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনেও দিলীপের অনুপস্থিতি চোখে পড়ে। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সম্মেলনের জন্য দিলীপকে দলের কলসেন্টার থেকে সাধারণ আমন্ত্রণ জানানো হলেও শীর্ষ নেতাদের জন্য যে আলাদা করে ফোন করা হয়েছিল, সেই ডাক তিনি পাননি। ফলে তিনি সম্মেলনে যাননি। তার ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই অমিত শাহের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, এই বৈঠকের জন্য দিলীপকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বৈঠকের আগের রাতে ফোন করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল।

দিঘার অনুষ্ঠানের পর নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেই সময় দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে একাধিক বক্তব্য রাখার জেরেই তাঁর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে বিজেপি সূত্রে দাবি। যদিও সেই সময়ও তাঁর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বা দলীয় গাড়ি প্রত্যাহার করা হয়নি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে দিলীপ কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, “আমাদের শুধু শুনতে ডাকা হয়েছিল। যা বলার দল বলবে।” ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে নতুন কোনও দায়িত্বে দেখা যাবে কি না— সে প্রশ্নেও তিনি সতর্ক। দিলীপের কথায়, “সেটা দলই ঠিক করবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের মুখে দিলীপ ঘোষকে ফের সক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী দিনে। তবে অমিত শাহের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি রাজ্য বিজেপির অন্দরে নতুন বার্তা দিচ্ছে, তা মানছেন অনেকেই।

Related Articles