দেশ

বাবার পরিচয়েই কি বিপদ? হাজি মস্তানের কন্যার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার নেপথ্যে সম্পত্তির লোভ!

এই ঘটনায় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

Truth Of Bengal: প্রয়াত গ্যাংস্টার হাজি মস্তানের কন্যা হাসিন মাস্তান মির্জা নিজের জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সুবিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর প্রাক্তন স্বামীর হাতে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই সঙ্গে সম্পত্তি দখল থেকে শুরু করে জোরপূর্বক বিয়ের মতো অপরাধেরও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই ঘটনায় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

নাবালিকা অবস্থায় নির্যাতনের অভিযোগ সংবাদ সংস্থা আইএএনএস (IANS)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসিন জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে তাঁর মামাতো ভাই নাসির হোসেন তাঁকে যৌন হেনস্থার চেষ্টা করেন এবং পরবর্তীতে জোর করে বিয়ে করেন। হাসিনের দাবি, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর থেকেই এই দুরবস্থার শুরু। তিনি বলেন, “আমি হাজি মস্তানের মেয়ে না হলে হয়তো এই পরিস্থিতির শিকার হতাম না। অপরাধীদের নজর ছিল বাবার সম্পত্তির ওপর। আমার প্রাক্তন স্বামী নিজেও স্বীকার করেছে যে আমি হাজি মস্তানের মেয়ে বলেই সে আমার ওপর অত্যাচার করেছে।”

২০১৩ সাল থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হাসিন। তবে আর্থিক অনটনের কারণে বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “পুলিশ আমাকে কখনও সাহায্য করেনি। এমনকি ১৪ বছর বয়সে যখন শারীরিক নির্যাতনের কারণে আমার গর্ভপাত হয়ে যায়, তখনও পুলিশ সব জেনেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।” তাঁর বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে নজর দিলে তিনি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার পাবেন।

নিজের লড়াইয়ের কথা বললেও বাবার সম্মানের বিষয়ে হাসিন অত্যন্ত সচেতন। তিনি বলেন, “বাবা সারাজীবন বহু মানুষকে সাহায্য করেছেন। আমি তাঁর নাম কালিমালিপ্ত করতে চাই না। আমি গর্বিত যে আমি তাঁর কন্যা।” ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বরং বর্তমান সরকারের কাছে তাঁর আর্জি, আইন যেন এতটাই কঠোর হয় যাতে অপরাধীরা কোনও অপরাধ করার আগে ভয় পায়।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার নীতি’ ও অপরাধ দমনের পদ্ধতির প্রশংসা করেছেন হাসিন মির্জা। তিনি দাবি করেছেন, মুম্বইয়ে তাঁর যে বাংলোটি অপরাধীরা দখল করে রেখেছে, সেখানেও যেন অনুরূপ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাঁর মতে, যোগী আদিত্যনাথের শাসনে পীড়িতরা দ্রুত বিচার পায়।

তিন তালাক রদ ও ন্যায়বিচারের আশা সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে হাসিন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ‘তিন তালাক’ রদ করার জন্য। তিনি মনে করেন, ইসলামের কিছু ধর্মীয় আইনের অপব্যবহার রুখতে এবং নারীদের সুরক্ষা দিতে মোদী সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো প্রশংসনীয়। একইসাথে নিজের মামলার ক্ষেত্রেও তিনি দ্রুত এবং কঠোর বিচার বিভাগীয় পদক্ষেপের আশা রাখছেন।

Related Articles