বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায় নিল আমেরিকা
বৃহস্পতিবার মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ও বিদেশসচিব মার্কো রুবিও ঘোষণা করেন, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো WHO-র সদস্য তালিকা থেকে আমেরিকা বাদ পড়ল।
Truth Of Bengal: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক ইতিহাসচিহ্নিত অধ্যায় বন্ধ হল। বৃহস্পতিবার মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ও বিদেশসচিব মার্কো রুবিও ঘোষণা করেন, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো WHO-র সদস্য তালিকা থেকে আমেরিকা বাদ পড়ল।
এই সিদ্ধান্ত আচমকা নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালে প্রথম প্রেসিডেন্সিতে থাকাকালীনই WHO থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে ২০ জানুয়ারি ২০২৫-এ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। মার্কিন আইনের একটি বিশেষ ধারা অনুসারে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে কিছু সময় লাগে, যা এই সপ্তাহে পূর্ণ হয়েছে।
রুবিও ও কেনেডির যৌথ বিবৃতিতে WHO-কে মূলত কোভিড-১৯ অতিমারিতে ব্যর্থ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, অতিমারির সময় সংস্থার ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশ করেছে। তাই ভবিষ্যতে WHO-র সঙ্গে আমেরিকার যোগাযোগ সীমাবদ্ধ থাকবে শুধু প্রত্যাহার সম্পর্কিত আইনি প্রক্রিয়া ও দেশীয় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, WHO-কে দেওয়া মার্কিন আর্থিক অনুদান ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলে WHO অর্থ সংকটে পড়েছে এবং সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানোম গেব্রেয়েসুস এই মাসের শুরুতেই জানিয়েছিলেন, অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানান, কার্যত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র WHO-র কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে, যদিও কিছু আইনি জটিলতা এখনও মিটেনি। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কোনো দেশের সীমাবদ্ধ বিষয় নয়; ভাইরাস বা অসংক্রামক রোগ—সব সমস্যার সমাধান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয় এবং সেই সহযোগিতার প্রধান মঞ্চই WHO।
WHO-র প্রধান আইনি কর্মকর্তা স্টিভেন সলোমন জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠাকালীন নথিতে প্রত্যাহারের কোনো ধারা রাখা হয়নি, কারণ সংস্থাটিকে সর্বজনীন হিসেবে ধরা হয়েছিল। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র একটি শর্ত যোগ করে—এক বছরের নোটিস ও চলতি আর্থিক বছরের সমস্ত দায় শোধ করলে সদস্যপদ ছাড়ার সুযোগ রাখা হয়। সলোমন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের চাঁদা বকেয়া রেখেছে, যা প্রায় ২৬ কোটি ডলার (প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা)।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অনেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। জনস্বাস্থ্য কর্মী লাকি ট্রান লিখেছেন, WHO বিশ্বজুড়ে দেশগুলোকে একত্রিত করে মৃত্যু ও রোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংস্থাটি নিখুঁত নাও হতে পারে, তবে বাইরে গিয়ে না থেকে ভেতরে থেকেই সংস্কার করা উচিত ছিল।
WHO যুদ্ধ, মানবিক বিপর্যয়, ইবোলা, যক্ষা ও অন্যান্য মারাত্মক রোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের আগে WHO-র সদস্য সংখ্যা ছিল ১৯৪।






