ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
মঙ্গলবার জাকার্তার ইস্তানা মেরদেকা রাষ্ট্রপতি ভবনে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
Truth of Bengal: ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগোল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইন্দোনেশিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, ভারত থেকে অতিরিক্ত ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। একই সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা’ (স্টার অব দ্য রিপাবলিক অব ইন্দোনেশিয়া)।
মঙ্গলবার জাকার্তার ইস্তানা মেরদেকা রাষ্ট্রপতি ভবনে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের অতিরিক্ত ইউনিট কেনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এর ফলে ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের পর ইন্দোনেশিয়া ভারতের ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। পাশাপাশি, ইন্দোনেশিয়ায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) তৈরিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছে ভারত।
সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা’ প্রদান করেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তো। ১৯৫৯ সালে প্রবর্তিত এই সম্মান সেইসব ব্যক্তিকে দেওয়া হয়, যাঁরা ইন্দোনেশিয়ার ঐক্য, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে অসামান্য অবদান রাখেন।
সম্মান গ্রহণের পর সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, এই সম্মান তাঁর ব্যক্তিগত নয়, ভারতের ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের। তিনি বলেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন এই স্বীকৃতি। এ জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তো, ইন্দোনেশিয়া সরকার এবং সে দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত-ইন্দোনেশিয়া বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই সফর দুই দেশের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।






