রুশ তেল কিনলেই ১০০ শতাংশ শুল্ক! মার্কিন সেনেটে বিল পাসের তোড়জোড়ে বড় বিপাকে ভারত-চিন
আমেরিকার এই চরম পদক্ষেপের জেরে বিশ্ববাজারে সরাসরি বিপাকে পড়তে চলেছে ভারত ও চিনসহ বিশ্বের অন্তত ৫টি দেশ।
Truth of Bengal: রাশিয়ার আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে এবং রুশ তেলের আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কড়া শিক্ষা দিতে আবারও ‘শুল্ক অস্ত্র’ প্রয়োগ করতে চলেছে আমেরিকা। মার্কিন সেনেটে এবার এমন একটি নয়া বিল পাস হতে চলেছে, যার জেরে এখন থেকে বিশ্বের কোনো দেশ রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল বা জ্বালানি কিনলে তার ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা বা শুল্ক চাপানো হতে পারে। হোয়াইট হাউসের পূর্ণ সমর্থন থাকা মার্কিন সেনেটরদের একটি শক্তিশালী দল এই বিলের প্রস্তাব করেছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, আগামী আগস্ট মাসের আগেই এই কঠোর বিলটি মার্কিন আইনসভায় পাস হয়ে পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে।
আমেরিকার এই চরম পদক্ষেপের জেরে বিশ্ববাজারে সরাসরি বিপাকে পড়তে চলেছে ভারত ও চিনসহ বিশ্বের অন্তত ৫টি দেশ। নয়া এই বিলের উদ্দেশ্য ও পরিধি স্পষ্ট করে মার্কিন সেনেটর ব্লুমেনথাল জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা ৫টি নির্দিষ্ট দেশের ওপর এই সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি বিশেষে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের সুযোগও রাখা হতে পারে। জানা গিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে মস্কোর থেকে দেদার তেল কেনার অপরাধে ওয়াশিংটনের কোপে পড়তে চলা এই দেশগুলো হলো— ভারত, চিন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজান। শুধু অপরিশোধিত তেলই নয়, রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারী দেশগুলির ওপরও সমহারে শুল্ক চাপানোর স্পষ্ট বিধান রয়েছে এই নয়া বিলে।
উল্লেখ্য, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিরুদ্ধে গত বছরই প্রথম এই ধরণের একটি বিলের প্রস্তাব এনেছিলেন ভারত-বিরোধী হিসেবে পরিচিত, সদ্য প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। সেই সময় তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যারা ক্রেমলিনের থেকে তেল কিনবে, তাদের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো উচিত। যদিও সে দফায় বিলটি আর কার্যকর রূপ পায়নি। তবে গ্রাহামের মৃত্যুর পর মার্কিন সেনেটে যে নতুন বিলটি পেশ হতে চলেছে, সেটি আসলে আগের বিলেরই একটি পরিমার্জিত ও সংশোধিত রূপ। মার্কিন সেনেট সূত্রের খবর, নয়া এই সংশোধনী বিলটিতে ইতিমধ্যেই ২৬ জন সেনেটর সই করে সমর্থন জানিয়েছেন এবং আগামী দিনে এই সমর্থনের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।






