ইরান-আমেরিকা সংঘাত ফের তীব্র, বাড়ছে অশোধিত তেলের দাম, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় উদ্বেগ
বাজার সূত্রে খবর, মাত্র দু’দিন আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭৭ থেকে ৭৮ ডলারের মধ্যে।
Truth of Bengal: যুদ্ধবিরতির পর আবারও সংঘাতের আবহ মধ্যপ্রাচ্যে। বুধবার রাত থেকে ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে আমেরিকা। তেহরান, বন্দর আব্বাস-সহ একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে অশোধিত তেলের দাম। ফলে বিশ্বজুড়েই নতুন করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাজার সূত্রে খবর, মাত্র দু’দিন আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭৭ থেকে ৭৮ ডলারের মধ্যে। তবে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতেই সেই দাম বেড়ে ৮০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আগের দফায় অশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনার জেরে দাম কিছুটা কমলেও নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সেই স্বস্তি ফের অনিশ্চয়তার মুখে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের জ্বালানি বাজারেও। পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির সম্মিলিত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। সেই আর্থিক চাপ এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি সংস্থাগুলি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়লে তার প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর পড়ার আশঙ্কা প্রবল।
পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে কূটনৈতিক স্তরেও সক্রিয় হয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে ইরান ও আমেরিকা-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার আবেদনও জানানো হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা বিশ্ব বাণিজ্য, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। ভারত চায়, সব পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন থাকুক।


