দিল্লি ও পাকিস্তানে বিস্ফোরণের নেপথ্যে পাক সেনা! বিস্ফোরক দাবি পাক সাংবাদিকের
তাহা সিদ্দিকীর বিবৃতি এমন সময়ে এসেছে যখন ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।
Truth Of Bengal: পাকিস্তানের সুপরিচিত সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী তাহা সিদ্দিকী একটি বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন যে সম্প্রতি ইসলামাবাদ এবং দিল্লিতে ঘটে যাওয়া বোমা বিস্ফোরণের পিছনে পাকিস্তানি সেনা-এর ভূমিকা রয়েছে। সিদ্দিকী এই বিবৃতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ পোস্ট করেছেন, যাতে তিনি পাকিস্তানের সেনার ওপর সন্ত্রাসবাদকে “বৈদেশিক নীতির হাতিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছেন।
In the last 24 hours : Terrorism in #Delhi. Terrorism in #Islamabad.
Both cities struck by suicide bombers that #PakistanArmy calls its assets.
There can b no peace in South Asia until Pak Generals are stopped from using #Islamist Terrorism as a domestic & foreign policy tool!
— Taha Siddiqui (@TahaSSiddiqui) November 11, 2025
তাহা সিদ্দিকী তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “পাকিস্তানি সেনা ভারত এবং অন্যান্য দেশে সন্ত্রাসবাদ রফতানি করে। এটি তার একটি পুরনো পদ্ধতি যার মাধ্যমে সে তার কৌশলগত স্বার্থ সাধনের চেষ্টা করে।” তিনি আরও বলেছেন যে পাকিস্তানে বিদ্যমান সামরিক শাসন সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে কেবলমাত্র আঞ্চলিক শান্তিকে বিপদে ফেলছে না, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও দুর্বল করছে। সিদ্দিকীর এই বিবৃতি পাকিস্তান এবং আন্তর্জাতিক স্তরে হৈচৈ সৃষ্টি করেছে।
তাঁর এই দাবি এমন সময়ে এসেছে যখন দিল্লির লাল কেল্লা এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বোমা বিস্ফোরণে পাকিস্তান ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জৈশ-এ-মোহাম্মদ-এর সংযোগ প্রকাশ পেয়েছে। একইভাবে, ইসলামাবাদেও গত কয়েকদিনে একটি সন্দেহজনক বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার তদন্ত এখনও চলছে।তাহা সিদ্দিকী পাকিস্তানের সেনার ওপর আগেও বহুবার গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেনার নীতি এবং প্রেস স্বাধীনতায় তার প্রভাবের সমালোচনা করে আসছেন।
সিদ্দিকীর মতে, পাকিস্তানের সেনা কেবলমাত্র মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে না বরং যেসব সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে কথা বলেন তাদেরকে লক্ষ্য করে। ২০১৮ সালে করাচি বিমানবন্দরে অজ্ঞাত আক্রমণকারীরা তাঁকে অপহরণের চেষ্টা করেছিল, যার পরে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসনে থাকছেন। তাঁর সাম্প্রতিক দাবির পর পাকিস্তানের সাংবাদিক সম্প্রদায়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিছু সাংবাদিক সিদ্দিকীর সমর্থনে বলেছেন যে তাঁর অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত, যখন অন্যরা এটিকে “রাজনৈতিক বিবৃতি” বলে অভিহিত করেছেন।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই বিবৃতির ওপর কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে তাহা সিদ্দিকীর এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করা যায় না, কারণ পাকিস্তানের সেনা এবং গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর ওপর ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ আগেও উঠেছে। ভারতে ঘটে যাওয়া পুলওয়ামা (২০১৯), পাঠানকোট (২০১৬) এবং মুম্বাই হামলা (২০০৮)-এর মতো ঘটনাগুলিতেও পাকিস্তান ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির ভূমিকা প্রকাশ পেয়েছিল।
তাহা সিদ্দিকীর বিবৃতি এমন সময়ে এসেছে যখন ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। রেড ফোর্ট বিস্ফোরণের পর ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং পাকিস্তান থেকে আসা যেকোনও কার্যকলাপের ওপর কড়া নজর রাখছে।






