সন্ত্রাস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের
পাকিস্তানকে 'বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু' হিসেবেও অভিহিত করেন পি হরিশ
Truth Of Bengal: বিশ্ব জল দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করল ভারত। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যতদিন না পাকিস্তান সীমান্ত সন্ত্রাস ও উগ্রবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করছে, ততদিন সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে কোনও আলোচনা বা সমঝোতা সম্ভব নয়। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে গত বছরের সন্ত্রাসবাদী হামলার জেরে গত এপ্রিল থেকে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্থগিত রেখেছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনরায় ঘোষণা করেছেন।
অনুষ্ঠানে পি হরিশ সাফ বলেন, “চুক্তির পবিত্রতা নিয়ে কথা বলার আগে পাকিস্তানকে অবশ্যই মানুষের জীবনের পবিত্রতা রক্ষা করতে শিখতে হবে।” ভারতকে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, দায়িত্ববোধ সবসময় দ্বিমুখী হওয়া উচিত। পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করা বন্ধ করছে, ততক্ষণ সিন্ধু নদের জল নিয়ে কোনও নমনীয়তা দেখাবে না ভারত। পাকিস্তানকে ‘বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।
রাষ্ট্রসংঘের এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল সকলের জন্য নিরাপদ জল ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা। কিন্তু সেখানেও পাকিস্তান নিজেদের ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ দাবি করে আন্তর্জাতিক সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করলে ভারত কড়া জবাব দেয়। হরিশ মনে করিয়ে দেন, ১৯৬০ সালে ভারত অত্যন্ত সদিচ্ছা ও বন্ধুত্বের মানসিকতা নিয়ে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু গত কয়েক দশকে পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে এবং অজস্র সন্ত্রাসবাদী হামলা চালিয়ে ভারতের সেই বিশ্বাসের অমর্যাদা করেছে।
পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক স্তরে সাঁড়াশি চাপ তৈরি করেছে ভারত সরকার। সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ইসলামাবাদ একে ‘ভিয়েনা চুক্তি’র লঙ্ঘন বলে দাবি করছে, তবে ভারত তার অবস্থানে অনড়। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বার্তা— রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না।






