দেশ

আয়ুষ্মান ভারতের সূচনায় দিল্লি পৌঁছলেন শুভেন্দু, কথা বলবেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গেও?

একদিকে সাড়ে ৬ কোটি মানুষের জন্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’, অন্যদিকে তৃণমূলের ভাঙন! সোমবার দিল্লিতে শুভেন্দুর মেগা সফর ঘিরে তোলপাড় দেশ

Truth of Bengal: ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় ঐতিহাসিক ক্ষমতা বদলের পর এবার কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। সোমবার এক হাই-ভোল্টেজ সফরে দেশের রাজধানী দিল্লিতে পা রাখলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর এই সফরে যেমন রয়েছে একাধিক মেগা সরকারি কর্মসূচি, ঠিক তেমনই দিল্লির রাজনৈতিক আবহে এটি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আজই দিল্লিতে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ সংহতির মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করছে মোদি সরকারের বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। যার ফলে বাংলার প্রায় সাড়ে ছ’কোটি মানুষ সরাসরি ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পেতে চলেছেন। তবে এই উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সমান্তরালেই দিল্লির অলিন্দে শুরু হয়েছে এক বিরাট রাজনৈতিক নাটক।

শুভেন্দুর দিল্লির সফরেই কি ২১ সাংসদের দলবদল?

রাজনৈতিক মহলের খবর, সোমবার দিল্লির বুকে একদিকে যখন আয়ুষ্মান ভারতের চুক্তি সই হচ্ছে, ঠিক তখনই রাজধানীর বুকেই ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছেন তৃণমূলের একঝাঁক ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ। দল থেকে পাকাপাকিভাবে আলাদা হওয়ার জন্য তাঁরা ইতিমধ্যেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

সূত্রের খবর, আজই দিল্লির কোনও গোপন ডেরায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একপ্রস্থ বৈঠক হতে পারে। সেখানে বাংলার বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ মতবিনিময় হবে। উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর থেকেই বঙ্গে আদি তৃণমূলের অন্দরে ধস নেমেছে। রাজ্য বিধানসভায় ইতিমধ্যেই শাসকদল ভেঙে ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘নতুন তৃণমূল’, যার বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই রেশ এবার লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও আছড়ে পড়তে চলেছে বলে জোরালো জল্পনা।

“বাছবিচার নয়, যে আসবে তাকেই আমাদের মতো বানাব”, হুঙ্কার বনশলের

এদিকে, এই মেগা দলবদলের মহূর্তে দলভারী করার পক্ষে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। অন্য দল থেকে আসা নেতাদের দলে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়েছেন, “আমাদের কাছে সব ধরনের লোকই আসবেন। কেউ কেউ হয়তো নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে একে নেওয়া উচিত, আর ওকে নেওয়া উচিত নয়, এমন বার্তা দেওয়া দলের পক্ষে মোটেও ঠিক নয়।”

বনশল স্পষ্ট করে দেন, বাইরে থেকে আসা যে কোনও নেতাকে যোগ্য কার্যকর্তা বা আদর্শবাদী কর্মী বানিয়ে নেওয়ার মূল দায়িত্ব ও ক্ষমতা খোদ বিজেপির সংগঠনের রয়েছে। বিজেপি এখন এতটাই মজবুত যে, যিনিই দলে আসবেন, তিনি থিতু হয়ে যাওয়ার পর দলের বিচারধারা মেনেই কাজ করবেন। ফলে, একদিকে সাড়ে ৬ কোটির স্বাস্থ্যবিমার লাইফলাইন আর অন্যদিকে সংসদের বুকে ঘাসফুল শিবিরের মহাপতন, এই দুইয়ের মিশেলে সোমবার দিল্লির রাজনীতি কোনদিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর গোটা দেশের।

Related Articles