দেশ

ছত্তিশগড়ে গুদাম থেকে উধাও ২৬ হাজার কুইন্টাল ধান! প্রশাসনিক গাফিলতি না কি সুপরিকল্পিত জালিয়াতি?

সম্প্রতি হিসেব মেলাতে গিয়ে দেখা যায়, চারভাটা এবং বঘরা ধান সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে একটি বড় অংশের ধানের কোনো হদিস নেই।

Truth of Bengal: ছত্তিশগড়ের কবর্ধা জেলায় সরকারি গুদাম থেকে প্রায় ২৬ হাজার কুইন্টাল ধান উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই ধানের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাত কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সরকার নির্ধারিত সহায়ক মূল্যে কৃষকদের থেকে মোট ৭ লক্ষ ৯৯ হাজার কুইন্টাল ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল। সম্প্রতি হিসেব মেলাতে গিয়ে দেখা যায়, চারভাটা এবং বঘরা ধান সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে একটি বড় অংশের ধানের কোনো হদিস নেই। এর মধ্যে কেবল চারভাটা কেন্দ্র থেকেই গায়েব হয়েছে ২২ হাজার কুইন্টাল ধান।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনের অন্দরে চাঞ্চল্য শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে চুরির অভিযোগ উঠলেও সরকারি আধিকারিকদের যুক্তি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আধিকারিকদের একাংশ দাবি করেছেন, ধান চুরি হয়নি বরং ইঁদুর এবং উইপোকা এই বিশাল পরিমাণ শস্য খেয়ে ফেলেছে। কবর্ধা জেলা প্রশাসনের আধিকারিক অভিষেক মিশ্র জানিয়েছেন, আবহাওয়া জনিত কারণ এবং ইঁদুর-উইপোকার উপদ্রবেই এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, রাজ্যের ৬৫টি ধান সংগ্রহ কেন্দ্রের মধ্যে কবর্ধার কেন্দ্রগুলির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। গুদামগুলোর পরিকাঠামো ভেঙে পড়ায় সেখানে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে প্রশাসনের এই আজব যুক্তিতে মোটেই সন্তুষ্ট নয় বিরোধী দলগুলি। ২৬ হাজার কুইন্টাল ধান কীভাবে স্রেফ ইঁদুরে খেয়ে ফেলতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, এটি একটি বড়সড় দুর্নীতি এবং সঠিক সময়ে প্রশাসন সতর্ক হলে এই বিপুল লোকসান এড়ানো যেত। ঘটনার প্রতিবাদে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে অভিনব বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকরা। প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াতে তারা ইঁদুর ধরার খাঁচা হাতে নিয়ে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছত্তীসগঢ়ের রাজনীতি সরগরম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে দায়ী করা হলেও, এত বড় অঙ্কের লোকসান কি শুধুই প্রকৃতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জোরালো হচ্ছে। আশপাশের জেলাগুলির সরকারি গুদামগুলোর অবস্থাও যে তথৈবচ, তাও স্বীকার করে নিয়েছেন আধিকারিকরা, যা রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাকেই সামনে এনেছে।

Related Articles