সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি
গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল।
Truth Of Bengal: সুপ্রিম কোর্টে আবারও পিছিয়ে গেল আইপ্যাক (I-PAC) মামলার শুনানি। জানা গেছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ হওয়ায় আরও সময় চাওয়া হয়। ওই আবেদনে সম্মতি জানিয়ে আদালত শুনানি পিছিয়ে দেয়। নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলার শুনানি হবে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। এর আগে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয়। সেখানে ইডির মামলা খারিজ করার আবেদন করা হয়। রাজ্য দাবি করে, ইডির এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে করার কোনো অধিকার নেই এবং তল্লাশির পদ্ধতিও ভুল ছিল। এছাড়া হলফনামায় বলা হয়, ইডির তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো বাধা দেননি, বরং অনুমতি নিয়ে দলীয় নথিপত্র সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন তিনি।
এরপর ইডির পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা হলফনামা খতিয়ে দেখতে ও পেশ করতে কিছু সময় চেয়েছিলেন। সেই আবেদনের ওপর রাজ্যের মতামত জানতে চায় আদালত। সবমিলিয়ে শুনানি পিছিয়ে যায়। আজ অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও কপিল সিব্বলের অসুস্থতার কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়।
ঘটনা শুরু হয় ৮ জানুয়ারি। ওই দিন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু ফাইল নিয়ে যান। তিনি জানান, সেসব দলীয় নথিপত্র, যাতে নির্বাচনী রণকৌশলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে। মমতা দাবি করেন, ইডি সেই নথিপত্র ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল এবং দলীয় স্বার্থে তিনি সেগুলো সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইডির সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা দাবি করে, পুরনো কয়লা পাচার মামলায় এই তল্লাশি করা হয় এবং ওই সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তদন্তে বাধা দিয়েছেন। তাঁকে সহায়তা করেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা। এই ঘটনার বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের করা হয়—একটি ইডির পক্ষ থেকে এবং আরেকটি আলাদাভাবে তিন ইডি অফিসার দায়ের করেন।






