“ইউরেনিয়াম নয়, আগে যুদ্ধ থামান”, পুতিনের প্রস্তাব ফিরিয়ে ইউক্রেন নিয়ে কড়া বার্তা ট্রাম্পের
এর আগে রাশিয়ার এই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেয়নি ওয়াশিংটন।
Truth of Bengal: ইরানের কাছে মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম গ্রহণ করতে প্রস্তুত রাশিয়া—এমনই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই এই প্রস্তাব দিয়েছেন। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার পথ খোলার পর থেকেই এই বিষয়ে মধ্যস্থতার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল মস্কো। তবে এর আগে রাশিয়ার এই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেয়নি ওয়াশিংটন।
আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ট্রাম্পের সন্দেহ, ইরান গোপনে পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। সেই কারণেই শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে ইরানকে পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু তেহরান সেই শর্ত মানতে রাজি নয়। ইরানের পাল্টা দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আলোচনার জট কাটাতে ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া এগিয়ে আসে। রাশিয়ার তরফে জানানো হয়, শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইরানের কাছে মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তারা নিজেদের কাছে নিয়ে যেতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
জানা যাচ্ছে, প্রায় দু’সপ্তাহ আগেই এই প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। তবে পরে ক্রেমলিন জানায়, আমেরিকা তাদের প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। এর মধ্যেই বুধবার ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ফোনে কথা হয়। আলোচনায় ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতিও উঠে আসে। ফোনালাপের পর ট্রাম্প দাবি করেন, পুতিন তাঁকে বলেছেন যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিষয়ে রাশিয়া যুক্ত হতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে তারা আমেরিকাকে সাহায্য করতে পারে কি না, সেটিও জানতে চেয়েছেন। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এই প্রস্তাবে আমেরিকার বিশেষ আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, আমি ওঁকে বলেছি, আপনি বরং ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর বিষয়টি নিয়ে বসুন। আমার কাছে সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ক্রেমলিনও স্বীকার করেছে যে দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধ দূর করতে রাশিয়া কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কী কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। রাশিয়ার বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা কোনও পক্ষের জন্যই শুভ হবে না। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে মস্কো।






