দেশ

বিজেপির গড় রাজকোটের জঙ্গলেশ্বর ওয়ার্ডে একচেটিয়া জয় কংগ্রেসের

স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে হওয়া বড় উচ্ছেদ অভিযানই এই ফলাফলের মূল কারণ।

Truth of Bengal: ২০২৬ সালের গুজরাটের স্থানীয় নির্বাচন ফলাফল সামনে আসতেই রাজকোট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের জঙ্গলেশ্বর ওয়ার্ডে বড় রাজনৈতিক চমক দেখা গেল। একসময় যে এলাকা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ছিল, সেই ওয়ার্ডেই এবার চারটি আসনেই জয় পেল কংগ্রেস। এই ফলাফল শাসক দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসাবে দেখা হচ্ছে।

এই জয়ের পেছনে মূল কারণ হিসাবে প্রশাসনের সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানকে দায়ী করা হচ্ছে। অভিযোগ, বৃহৎ পরিসরে ভাঙচুর ও উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভই ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে।

এই ওয়ার্ডে কংগ্রেসের হয়ে জয়ী হয়েছেন চার প্রার্থী। তাঁরা হলেন-  অর্জুন চৌহান, ইব্রাহিম সোরা, দীপ্তিবেন সোলাঙ্কি এবং রাসিলাবেন গড়াইয়া। এই চারজনের সম্মিলিত জয়কে কংগ্রেস শিবির বড় সাফল্য হিসাবে দেখছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে হওয়া বড় উচ্ছেদ অভিযানই এই ফলাফলের মূল কারণ। রাজকোট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বিপুল পুলিশ বাহিনীর সহায়তায় আজি নদী সংলগ্ন এলাকা ও টাউন প্ল্যানিং রাস্তার পাশে প্রায় ১৪০০টি অবৈধ বাড়ি ও স্থাপনা ভেঙে দেয়।

এই অভিযানে প্রায় ৮৭ হাজার বর্গমিটার জমি খালি করা হয়, যার বাজারমূল্য তিনশো কোটি টাকারও বেশি বলে জানা যায়। কিন্তু এই অভিযানের ফলে কয়েক হাজার মানুষ ভোটের ঠিক আগেই বাস্তুচ্যুত হন, যা তাঁদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের জন্ম দেয়।

প্রশাসনের দাবি ছিল, এই পদক্ষেপ শহর পরিকল্পনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি। কিন্তু বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় অংশই ভোটের মাধ্যমে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করে কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

রাজকোটের এই ফলাফল বিজেপির জন্য অবশ্যই একটি বড় ধাক্কা হলেও, গুজরাটের অন্যান্য শহরে দলটির শক্ত অবস্থান এখনও বজায় রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। তবে জঙ্গলেশ্বরের এই ফলাফল দেখিয়ে দিল, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কঠোর উচ্ছেদ নীতি ভোটের ফলাফলকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।

এখনও রাজকোটের অন্যান্য ওয়ার্ডের গণনা চলছে, তবে আপাতত জঙ্গলেশ্বরের এই জয় গুজরাট কংগ্রেসের জন্য বড় মনোবল বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এমন এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ এখনও অনেকটাই বড়।

 

Related Articles