ভোটের পরের দিনই ইডির গ্রেফতারি কাটিয়ে জামিন পেলেন আইপ্যাক কর্তা বিনেশ চান্দেল
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) বিনেশের জামিনের আবেদনের কোনো বিরোধিতা করেনি।
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই বড়সড় স্বস্তি পেলেন ভোটকুশলী সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ বা আইপ্যাক-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেল। বৃহস্পতিবার দিল্লির পটিয়ালা হাউস কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) বিনেশের জামিনের আবেদনের কোনো বিরোধিতা করেনি।
আর্থিক তছরুপের একটি মামলায় নাম জড়িয়ে গত ১৩ এপ্রিল ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন বিনেশ। সে সময় রাজ্যে তখনও ভোটগ্রহণ শুরু হয়নি। গ্রেফতারির পরদিন ১৪ এপ্রিল তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। হেফাজতের মেয়াদ শেষ হলে গত ২৩ এপ্রিল তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। এর মাঝে মঙ্গলবার একবার অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে গিয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার সকালে পরিস্থিতি বদলায়। বিচারপতি অমিত বনসল জামিন মঞ্জুর করার সময় জানান, সরকারি আইনজীবীকে আপত্তির সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি বিনেশের জামিনের বিরোধিতা করেননি। আইপ্যাক-এর এই ডিরেক্টর বিনেশ চান্দেল সংস্থার ৩৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে পিএমএলএ (PMLA) আইনে মামলা চলছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দিল্লি পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআরের সূত্র ধরেই এই অর্থ পাচার মামলার তদন্ত শুরু করেছিল ইডি। বিনেশকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এই মামলার জল গড়িয়েছে বহুদূর। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি কলকাতায় আইপ্যাক-এর অফিস এবং সংস্থার অন্য এক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী ছিল শহর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং আধিকারিকদের নিয়ে প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, ইডি তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে ঢুকে ল্যাপটপ, ফাইল ও বেশ কিছু নথিপত্র সরিয়ে আনেন। পরবর্তীতে সল্টলেকের অফিসে গিয়েও একই কাজ করেন তিনি। এই ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও দায়ের হয়েছিল। রাজ্যে সাত দফার ভোটের মধ্যে দুটি দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বুধবার। ঠিক তার পরদিন বিনেশের এই জামিন লাভ রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যে ইডি আগে বিনেশের হেফাজত চেয়েছিল, তারা কেন হঠাৎ জামিনের বিরোধিতা করা থেকে বিরত থাকল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে আপাতত জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন আইপ্যাক-এর এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।






