ঝাড়গ্রামে উন্নয়নের নামে গাফিলতি! ৫০ কোটির কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ধস, নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ
ঝাড়গ্রামে ৫০ কোটির ‘ইকো প্যাসেজ’ হুড়মুড়িয়ে ভাঙতেই দুর্নীতির অভিযোগে সরব তৃণমূল
শান্তনু পান, ঝাড়গ্রাম: জঙ্গলমহলের পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের হাতি-মানুষ সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি ‘মহৎ’ প্রকল্প হঠাৎ করেই ঘোর বিতর্কের আবর্তে। ঝাড়গ্রামের গুপ্তমণি এলাকায় ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর নির্মীয়মাণ একটি ‘ইকো প্যাসেজ’ আন্ডারপাস ব্রিজের অংশ বিশেষ হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ায় নিরাপত্তার চূড়ান্ত অভাব এবং নির্মাণমান নিয়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও, এই ঘটনা ৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে।
মেদিনীপুর শহর এবং ঝাড়গ্রামের মধ্যে সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় আন্ডারপাসটি মূলত হাতির নিরাপদ চলাচলের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। বনদফতরের সুপারিশ মেনে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি ব্যয়ে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭ মিটার উচ্চতার এই ইকো প্যাসেজটির কাজ ২০২৫ সাল থেকে শুরু করে। পরিকল্পনা ছিল, সড়ককে উঁচু করে তার নীচ দিয়ে হাতির দল পারাপার করবে এবং উপর দিয়ে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করবে। কাজের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল দেড় বছর। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ঢালাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাঠামোর একটি অংশ ধসে পড়ায় নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর থেকেই নির্মাণে গাফিলতি এবং ব্যবহৃত সামগ্রীর মান নিয়ে স্থানীয় সূত্রের দাবি জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কাজের তদারকি এবং উপকরণের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। যদিও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, হাতির চলাচলের ফলেও ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে, যদিও সাম্প্রতিক কয়েকদিনে ওই রুটে হাতির উপস্থিতির কোনো প্রমাণ মেলেনি বলেই জানা গেছে। যাতায়াত শুরুর আগেই ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় নির্মাণকারী সংস্থার কাজ ও অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন গোপীবল্লভপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতো, মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতা তথা খড়গপুর গ্রামীণের তৃণমূল প্রার্থী দীনেন রায় এবং রাজ্যের বিদায়ী প্রতিমন্ত্রী ও সালবনি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী শ্রীকান্ত মাহাতো। তাঁরা একযোগে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। অজিত মাহাতো স্পষ্ট অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই এই ধস। এই ঘটনা কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক তর্জাকেও নতুন করে উস্কে দিল। জঙ্গলমহলের হাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ এখন দুর্নীতির মেঘে ঢাকা।






