উত্তরপ্রদেশের নতুন লাইফলাইন, দেশের বৃহত্তম সড়ক প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
প্রায় ৩৬,২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই এক্সপ্রেসওয়েটি উত্তরপ্রদেশের দীর্ঘতম এক্সপ্রেসওয়ে এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ সড়ক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Truth of Bengal: উত্তরপ্রদেশের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের লক্ষ্যে বুধবার মিরাটে ৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে’-র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের সূচনা করেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দাবি, এই এক্সপ্রেসওয়ে আগামী দিনে উত্তর ভারতের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ধমনী হয়ে উঠবে।
প্রায় ৩৬,২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই এক্সপ্রেসওয়েটি উত্তরপ্রদেশের দীর্ঘতম এক্সপ্রেসওয়ে এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ সড়ক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মিরাট থেকে শুরু করে প্রয়াগরাজ পর্যন্ত বিস্তৃত এই পথ মোট ১২টি জেলার উপর দিয়ে গিয়েছে। ফলে এতদিন যেখানে মিরাট থেকে প্রয়াগরাজ যেতে ১০-১২ ঘণ্টা সময় লাগত, সেখানে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ায় তা কমে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে হলেও ভবিষ্যতে তা আট লেন পর্যন্ত সম্প্রসারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, দ্রুত যাতায়াতের পাশাপাশি এই প্রকল্প রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রেও নতুন গতি আনবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়ের দু’ধারে গড়ে তোলা হচ্ছে ১২টি শিল্প তালুক (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার)। প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৭,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা পড়েছে। কৃষিভিত্তিক শিল্প থেকে শুরু করে ভারী শিল্প—সব ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলকে হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রও। শাহজাহানপুরে তৈরি হয়েছে একটি বিশেষ রানওয়ে, যেখানে জরুরি প্রয়োজনে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান অবতরণ করতে পারবে। নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক থেকেও একে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনৈতিক মহলের মতে, এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে পণ্য পরিবহন খাতে। যাতায়াতের সময় কমলে এবং রাস্তার মান উন্নত হলে ট্রাক ও লরির পরিবহন খরচ স্বাভাবিকভাবেই কমবে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এর ফলে পণ্য মজুত রাখার খরচ প্রায় ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যার সুফল সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের উপর পড়বে।
ই-কমার্স ক্ষেত্রেও এই এক্সপ্রেসওয়েকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের ই-কমার্স বাজার বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে যে পূর্বাভাস রয়েছে, সেই প্রেক্ষিতে এই সড়কপথ হয়ে উঠতে পারে উত্তর ভারতের ব্যবসায়িক পরিবহণ ব্যবস্থার মূল চাবিকাঠি।
প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, এই এক্সপ্রেসওয়ে রাজ্যের উন্নয়নের যাত্রায় এক নতুন শক্তি জোগাবে। এটি গ্রাম, কৃষক, উদ্যোক্তা এবং যুবকদের সংযুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হয়ে উঠবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা উত্তরপ্রদেশ বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরীও এই প্রকল্পকে আধুনিক পরিকাঠামোর এক অনন্য উপহার বলে উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন এবং বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রীর নিবিড় জনসংযোগ উত্তরপ্রদেশের আসন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ শিল্পের নিরিখে এগিয়ে থাকলেও পূর্ব অংশ দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে সেই ব্যবধান কমিয়ে রাজ্যের দুই প্রান্তকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা করছে।






