দেশ

ভয়ঙ্কর কাণ্ড ওড়িশায়! টাকা পেতে দিদির কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির যুবক

মৃত দিদির কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাঙ্কে ভাই! ‘ওকে ছাড়া টাকা মিলবে না’, ব্যাঙ্ক কর্মীর কথায় শোরগোল

Truth of Bengal: ওড়িশার কেওনঝড় জেলায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা অথচ অত্যন্ত করুণ ঘটনা। ব্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকা তোলার জন্য নিজের মৃত দিদির কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাঙ্কের দোরগোড়ায় হাজির হলেন এক আদিবাসী ব্যক্তি। সোমবার দুপুরে মল্লিপাসি গ্রামের ‘ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক’-এর শাখার সামনে এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রাহক থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক কর্মীরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, ৪২ বছর বয়সী জিতু মুন্ডার দিদি প্রায় দু’মাস আগে মারা গিয়েছেন। স্বামী ও একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিদি জিতুর কাছেই থাকতেন এবং ওই ব্যাঙ্কে তাঁর একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট ছিল। দিদির মৃত্যুর পর সেই টাকা তোলার জন্য বারবার ব্যাঙ্কে চক্কর কাটছিলেন জিতু। কিন্তু ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের তিনি দিদির মৃত্যুর খবরটি জানাননি। একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পর, জিতুর দাবি অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের এক কর্মী তাঁকে বলেন যে খাতা যাঁর নামে, তাঁকে না আনলে টাকা পাওয়া যাবে না।

যদিও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁরা জিতুকে কেবল দিদির ‘লিগ্যাল হেয়ার’ বা আইনি উত্তরাধিকারী হওয়ার নথিপত্র আনতে বলেছিলেন। কিন্তু সরলবিশ্বাসী জিতু মনে করেন, দিদিকে সশরীরে ব্যাঙ্কে হাজির করাই টাকা পাওয়ার একমাত্র উপায়। এর পরেই তিনি গ্রামে ফিরে দিদির কবর খুঁড়ে কঙ্কাল বের করেন এবং একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে তা কাঁধে নিয়ে সোজা হাজির হন ব্যাঙ্কে।

ব্যাঙ্কের বারান্দায় পচন ধরা মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে তড়িঘড়ি পাটনা থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। থানার আইসি কিরণ প্রসাদ সাহুর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিতুকে বোঝানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে এবং টাকা পাইয়ে দেওয়ার আইনি আশ্বাসে শান্ত হন জিতু। ওই দিনই দিদির দেহাবশেষ পুনরায় গ্রামে নিয়ে গিয়ে কবরস্থ করেন তিনি। প্রশাসনের এই আশ্বাসে জিতুর দীর্ঘ লড়াই হয়তো শেষ হবে, কিন্তু সিস্টেমের জটিলতা আর এক আদিবাসী মানুষের অসহায়তার এই ছবি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে সমাজের সংবেদনশীলতা নিয়ে।