দেশ

অমানবিক ভোপাল! টাকা না দিলে হবে না স্থানান্তর, অ্যাম্বুলেন্সের রক্ত পরিষ্কার করানো হলো রোগীর আত্মীয়কে দিয়ে

ঘটনাটির সূত্রপাত ২৪ এপ্রিল, যখন ৩২ বছর বয়সী রাহুল বর্মন কারেলা গ্রামের কাছে একটি ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার শিকার হন।

Truth of Bengal: ভোপাল থেকে এক মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন অমানবিক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তির পরিবারকে নিগৃহীত করার অভিযোগ উঠেছে অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্থানান্তরের বিনিময়ে অ্যাম্বুলেন্সের রক্তমাখা মেঝে পরিবারের এক নারীকে দিয়ে পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওই অ্যাম্বুলেন্স কর্মী পরিবারের কাছে টাকা দাবি করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটির সূত্রপাত ২৪ এপ্রিল, যখন ৩২ বছর বয়সী রাহুল বর্মন কারেলা গ্রামের কাছে একটি ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার শিকার হন। তাঁকে প্রথমে কাটনি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে জবলপুরের উন্নত হাসপাতালে রেফার করেন। অভিযোগ উঠেছে, এই সংকটের মুহূর্তেই জেলা হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্সের কর্মী মোহিত পরিবারের কাছে টাকা দাবি করেন। শুধু তাই নয়, তিনি শর্ত দেন যে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা আগের রোগীর রক্ত ও ময়লা পরিবারকে পরিষ্কার করতে হবে, তবেই তিনি জবলপুর যাবেন।

ভাইরাল হওয়া ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রাহুলের এক নারী আত্মীয় অত্যন্ত অসহায়ভাবে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরের রক্তের দাগ ধুয়ে পরিষ্কার করছেন। নিগৃহীত ওই নারী জানান, তাঁর স্বামীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল, তাই কোনো উপায় না পেয়ে এবং দ্রুত জবলপুর পৌঁছানোর তাগিদে তিনি অ্যাম্বুলেন্স চালকের দেওয়া এই অমানবিক নির্দেশ মানতে বাধ্য হন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পরিবারের লোক যখন মেঝে ঘষছেন, তখন অ্যাম্বুলেন্স কর্মী নির্বিকারভাবে পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কাটনি জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। জেলা হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডক্টর বর্মা জানিয়েছেন, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের এমন আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং নিয়মবিরুদ্ধ। ইতিমধ্যেই ‘১০৮’ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার ইনচার্জ এবং সংশ্লিষ্ট চালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show-cause notice) পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট সন্তোষজনক না হলে ওই কর্মীদের বরখাস্ত করার মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।

Related Articles