ভাঙড়ে নওশাদ-শওকত সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর! দুপক্ষই জয়ের বিষয়ে আশাবাদী
নওশাদ বনাম শওকতের ডুয়েল-এ কেন্দ্র বাহিনী ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ!
গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ সব থেকে বেশি যেন এখন ভাঙড় কেন্দ্রকে ঘিরে। ভোট শেষ হলেও, রাজনৈতিক স্নায়ুর যুদ্ধ জারি রেখেছেন দুই হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী, আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এবং তৃণমূলের শওকত মোল্লা। জয়ের বিষয়ে দুজনেই সমানভাবে আত্মবিশ্বাসী হলেও, ভোটের দিন কেন্দ্র বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তাদের অবস্থানে আকাশ-পাতাল পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। এই বিপরীতমুখী অবস্থানের জেরেই ভাঙড়ের নির্বাচনী আবহাওয়া এখন রীতিমতো উত্তপ্ত।
ভাঙড়ের জনমত কোন দিকে, এই প্রশ্নের উত্তরে নওশাদ সিদ্দিকী স্পষ্ট জানান, মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে। তিনি দাবি করেন, এলাকার মানুষ যেভাবে তাঁকে সমর্থন করছেন, তাতে তাঁর জয় নিশ্চিত। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ নওশাদ। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় বাহিনী যেভাবে বুথে বুথে টহল দিচ্ছে এবং সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা দিচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নওশাদের দাবি, বাহিনীর কাজের ধরন নিরপেক্ষ, যা ভোটারদের মনে আস্থা তৈরি করছে এবং অশান্তি রুখতে সাহায্য করছে।
ঠিক উল্টো সুর শোনা গেল শওকত মোল্লার কণ্ঠে। তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তৃণমূল প্রার্থীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং তাদের উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বয়স্ক ভোটাররা আতঙ্কিত বোধ করছেন। শওকতের দাবি, বাহিনীর এই একপেশে কাজ ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ভোটারদের ওপর এমন কঠোর মনোভাব দেখানো হচ্ছে? ভোটারদের সঙ্গে বাহিনীর এই আচরণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছেও তাঁর অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন তিনি।
দুই নেতার এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ভাঙড়ের নির্বাচনী লড়াইকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। একদিকে যখন নওশাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘শান্তি রক্ষক’ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে শওকতের নিশানায় সেই বাহিনীই ‘ভীতিপ্রদর্শনকারী’। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাঙড়ে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। একদিকে শাসকদলের সংগঠন, অন্যদিকে আইএসএফ-এর যুবশক্তির প্রভাব, এই দুইয়ের দ্বৈরথে কার ভাগ্যে শেষ হাসি জোটে, তা জানতে এখন অপেক্ষা ৪ মে-র। তবে যে পক্ষই জিতুক, ভোটের দিন এই উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর ভাঙড়ের নির্বাচনের ইতিহাসকে দীর্ঘ সময় মনে করিয়ে দেবে।






