রাজ্যের খবর

জ্ঞানেশের নির্দেশে ময়দানে সুব্রত গুপ্ত! কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন? তদন্তে বিশেষ পর্যবেক্ষক

Truth of Bengal: দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহাওয়া এখন রীতিমতো উত্তপ্ত। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ইভিএম কারচুপি, ক্যামেরা ঢেকে রাখা এবং ভয়াবহ স্পাই ক্যামেরার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসতেই কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার সকালেই সরাসরি ময়দানে নামার নির্দেশ দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। আজ বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত সরেজমিনে সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন।

কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্র, ফলতা, ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট এবং বজবজ থেকে অনিয়মের অভিযোগের বন্যা বয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ফলতা থেকে ৩২টি, ডায়মন্ড হারবার থেকে ২৯টি, মগরাহাট থেকে ১৩টি এবং বজবজ থেকে ৩টি। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে ইভিএমে টেপ লাগিয়ে দেওয়া, ইভিএমে আতর মাখানো বা সিসিটিভি ক্যামেরায় রুমাল চাপা দেওয়ার মতো ঘটনা। তবে সমস্ত অভিযোগকে ছাপিয়ে গেছে মগরাহাট পশ্চিমের একটি স্পাই ক্যামেরা সংক্রান্ত অভিযোগ। ভোটারদের জামার পকেটে গোপনে স্পাই ক্যামেরা রেখে কে কাকে ভোট দিচ্ছে, তা শনাক্ত করার ‘ষড়যন্ত্র’ চলছে বলে দাবি বিরোধীদের।

এই অভিযোগের পরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বৃহস্পতিবার সকালে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে ফোন করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ নেন। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত প্রতিটি বুথে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বিশেষ পর্যবেক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা বুথে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের বয়ান মিলিয়ে দেখবেন।

যদি তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে নির্বাচন কমিশন আগামী কালই অর্থাৎ শুক্রবার সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করতে পারে। ভোটপর্ব শেষ হলেও যে পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে, তাতে নির্বাচন কমিশন যে কোনো রকম শিথিলতা বরদাস্ত করতে নারাজ, তা এই দ্রুত পদক্ষেপে স্পষ্ট। ৪ মে ভোটের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকা রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ এখন এই ৭৭টি বুথের পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তের ওপর। কমিশন এখন কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী।

Related Articles