রাজ্যের খবর

বাংলার ‘সিংহম’ এবার সুপ্রিম কোর্টে! আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে সরানোর দাবিতে শীর্ষ আদালতে মামলা

তাঁর নানাবিধ হুমকিতে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।

Truth of Bengal: উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাংলার নির্বাচনী রাজনীতি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে তাঁর নিয়োগ এবং সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের জেরে বিতর্ক এখন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে। মঙ্গলবার আদিত্য দাস নামে এক ব্যক্তি শীর্ষ আদালতে এই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। আবেদনকারীর অভিযোগ, অজয় পাল শর্মা অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন এবং তাঁর নানাবিধ হুমকিতে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এই পুলিশ পর্যবেক্ষকের একটি হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে। সেখানে স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে তিনি রীতিমতো ‘দাবাং’ মেজাজে সতর্কবার্তা দেন। তিনি সাফ জানান, কোনো রকমের ‘বদমাইশি’ বরদাস্ত করা হবে না এবং তেমন কিছু ঘটলে ফল ভালো হবে না। এই মন্তব্যের পরই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। তাঁদের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের এই অফিসার আদতে ভোটার এবং প্রার্থীদের ভয় দেখাচ্ছেন।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ওই ভিডিওতে আইপিএস অফিসারকে এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা কোনো নিরপেক্ষ মাধ্যম থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহুয়া মৈত্রর সুরেই সরব হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবও। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শরিক অখিলেশও বঙ্গভোটের আবহে ওই পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

নির্বাচন কমিশন দ্বিতীয় দফার ভোট নির্বিঘ্ন করতে রাজ্যে মোট ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই রয়েছেন ৩ জন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিআইজি অজয় পাল শর্মা। তবে যোগীরাজ্যের এই দুঁদে অফিসারকে বাংলার স্পর্শকাতর জেলায় নিয়োগ করা নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি তুলেছিল রাজ্যের শাসক দল। একদিকে সুপ্রিম কোর্টে মামলা এবং অন্যদিকে ভিডিও বিতর্ক— সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই আইপিএস অফিসারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি চরমে পৌঁছেছে।

Related Articles