ফল ঘোষণার আগে আবির তৈরির কারখানায় ব্যস্ততা তুঙ্গে
চাহিদা পূরণ করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে তমলুকের আবির প্রস্তুতকারক কারখানাগুলি
রঞ্জন মাইতি, তমলুক: দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই রাজ্যে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। আগামী ৪ মে জানা যাবে বাংলার মসনদে কারা বসছে— শাসকদল তৃণমূল, না বিরোধী দল বিজেপি। তবে ফলাফল ঘোষণার দিন যেন অকাল দোল উৎসবের চেহারা নিতে চলেছে, এমনই ইঙ্গিত মিলছে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থেকে। কারণ ভোটদান পর্ব শেষ হতেই বাজারে সবুজ, গেরুয়া সহ বিভিন্ন রঙের আবিরের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। সেই চাহিদা পূরণ করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে তমলুকের আবির প্রস্তুতকারক কারখানাগুলি।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহরের উত্তরচড়া শংকরআড়া এলাকায় একাধিক আবির কারখানা রয়েছে। মূলত ভেষজ আবির তৈরির জন্য পরিচিত এই কারখানাগুলিতে সাধারণত বছরে মাত্র চার মাস কাজ হয়, দোল বা হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করে। প্রতি বছর দোলের চার মাস আগে থেকেই শুরু হয় আবির তৈরির কাজ। উৎসব শেষ হলে সারা বছর কারখানাগুলিতে তালা ঝুলে থাকে।
কিন্তু এবারে সেই চিরাচরিত ছবি বদলে দিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে বাজারের বাড়তি চাহিদা। ভোটপর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানাগুলিতে ফের তালা খুলে শুরু হয়েছে আবির তৈরির কাজ। বিশেষ করে সবুজ এবং গেরুয়া রঙের আবির তৈরিতেই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কারখানার শ্রমিক ও মালিকদের মতে, ফল ঘোষণার দিন কোন দলের জয় হবে তার উপর নির্ভর করেই কোন রঙের আবির বেশি উড়বে। তবে আগাম প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না তাঁরা। তাই ফলাফলের আগেই তমলুকে জোরকদমে চলছে আবির উৎপাদন। তমলুকের এক আবির কারখানার মালিক সাধন চন্দ্র গুড়িয়া বলেন, ফলাফলের দিনই বোঝা যায় কোন রঙের চাহিদা বেশি হবে। তবে আমার মনে হয় সবুজ আবিরের চাহিদাই বেশি থাকবে। তাই এবারে আমি শুধুমাত্র সবুজ আবির তৈরি করেছি।
উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মোট ১৬টি বিধানসভা আসনে এবার শাসক ও বিরোধী দল ছাড়াও একাধিক রাজনৈতিক দল প্রার্থী দিয়েছে। তাই জেলার রাজনৈতিক ফলাফল ঘিরে উত্তেজনাও তীব্র। সব মিলিয়ে, ৪ মে-র ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তমলুকের আবির কারখানাগুলিতে যে ব্যস্ততা তৈরি হয়েছে, তা যেন ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলায় ‘অকাল দোল’ আবহ তৈরি করেছে। এখন সব নজর আগামী ৪ মে-র দিকে—ফলাফলই ঠিক করবে শেষ পর্যন্ত কোন রঙে রাঙবে জেলা।






