বুমরাহদের ব্যর্থতা ঢাকলেন অধিনায়ক পান্ডিয়া, মুম্বইয়ের মহাবিপদেও দলের পাশেই হার্দিক
তিনি বুঝিয়ে দিলেন, একজন নেতার কাজ শুধু জয়ের সময় সামনে থাকা নয়, হারেও দলের পাশে থাকা।
Truth of Bengal: আইপিএলের এই মরশুমটা মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জন্য খুব একটা সুখকর যাচ্ছে না। বড় রান তুলেও ম্যাচ জেতা যাচ্ছে না, আবার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুলও থেকে যাচ্ছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ২৪৩ রান করেও হারতে হল ছয় উইকেটে। কিন্তু ম্যাচের পর যা সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ল, তা হল অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার মনোভাব। হার্দিক একেবারেই ভিন্ন পথ বেছে নিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই হারের দায় শুধু বোলারদের নয়। দলের হয়ে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, কাউকে আলাদা করে দোষ দেওয়া ঠিক নয়, কারণ দল হিসাবে প্রত্যাশা পূরণ করা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে অনেক অধিনায়কই বোলিং বা ফিল্ডিংকে কাঠগড়ায় তোলেন, কিন্তু হার্দিক সেটা করেননি। বরং তিনি বুঝিয়ে দিলেন, একজন নেতার কাজ শুধু জয়ের সময় সামনে থাকা নয়, হারেও দলের পাশে থাকা।
এই ম্যাচে মুম্বইয়ের ব্যাটিং দুর্দান্ত ছিল। এত বড় স্কোর সাধারণত জয়ের পথ তৈরি করে দেয়। কিন্তু বোলিং বিভাগ সেই রান ধরে রাখতে পারেনি। জসপ্রীত বুমরাহর মতো অভিজ্ঞ বোলারও নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। তবুও হার্দিকের কথায় কোথাও বিরক্তি বা দোষারোপের সুর ছিল না। বরং তিনি বললেন, এই মরশুমে হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই, তাই যা আছে তা দিয়েই সমাধান খুঁজতে হবে। দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও তিনি খোলাখুলি কথা বলেছেন। আট ম্যাচে মাত্র চার পয়েন্ট— এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে মুম্বই কতটা পিছিয়ে আছে। তবুও হার্দিক আশাবাদী। তাঁর বিশ্বাস, দলের মালিক এবং সাপোর্ট স্টাফদের সমর্থন থাকায় এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
সমর্থকদের প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁর কথায় অন্যরকম আবেগ ধরা পড়ে। তিনি মেনে নেন, দল এখনও সমর্থকদের তেমন খুশি করতে পারেনি। কিন্তু তবুও যেভাবে তারা পাশে থেকেছে, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। কখনও কখনও প্রতিপক্ষের সমর্থকদের উল্লাস শুনে খারাপ লাগে বলেও জানান তিনি। তবে সেই পরিস্থিতি বদলানোর দায়িত্ব দলেরই। এই ম্যাচে কয়েকটা ছোট ভুল বড় হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে কিছু ক্যাচ মিস এবং ফিল্ডিংয়ের ত্রুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। হার্দিক নিজেও বলেন, এই ধরনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের গতি বদলে যেতে পারত। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি, আর সেটারই খেসারত দিতে হয়েছে। অন্যদিকে হায়দরাবাদ খেলেছে একেবারে নির্ভীক মানসিকতা নিয়ে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তারা চাপ তৈরি করে। সেই চাপের মধ্যেই ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেয় তারা। তাদের এই ইতিবাচক মনোভাবই জয়ের মূল চাবিকাঠি হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে এই ম্যাচ শুধু স্কোরলাইনের হিসাব নয়। এখানে দেখা গেল, হারলেও কীভাবে একজন অধিনায়ক নিজের দলকে আগলে রাখেন। হার্দিক পান্ডিয়ার এই মনোভাবই বলে দেয়, তিনি শুধু খেলোয়াড় নন, একজন প্রকৃত নেতা।






