Snakebite Kerala: সাপ দংশন এখন ‘সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ রোগ’! মৃত্যু রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল কেরল সরকার
গত শুক্রবার জারি করা গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। কেরালা পাবলিক হেলথ অ্যাক্ট, ২০২৩-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী এই ঘোষণাটি করা হয়েছে।
Truth of Bengal: রাজ্যে সাপ দংশনের ঘটনা ও তার ফলে মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। অবশেষে এই মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিল কেরল সরকার। রাজ্য সরকার সাপ দংশনকে (Snakebite Envenomation) “জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ রোগ” হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য হলো এই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও নথিপত্র সংরক্ষণের প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করা। গত শুক্রবার জারি করা গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। কেরালা পাবলিক হেলথ অ্যাক্ট, ২০২৩-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী এই ঘোষণাটি করা হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (স্বাস্থ্য) ডাঃ রাজন খোবরাগাড়ে স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিষধর সাপের কামড়ের ফলে সৃষ্ট এই রোগটি রাজ্যের সর্বত্র “জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রোগ” হিসেবে বিবেচিত হবে।
সরকার কোনো রোগ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে চাইলে বা সেই রোগের চিকিৎসায় কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করাতে চাইলে, সংক্রামক বা অসংক্রামক যেকোনো রোগকেই জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রোগ হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে বিষাক্ত সাপের কামড়ে মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতাও ঘটতে পারে। কেরল সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি এলো কেরল হাইকোর্টের নির্দেশিকার মাত্র দুই সপ্তাহ পর। ২৬ সেপ্টেম্বর, প্রধান বিচারপতি নীতিন জামদার এবং বিচারপতি শোভা আন্নাম্মা ইপেনের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সাপ দংশনের ঘটনাগুলিকে নোটিফায়েবল রোগ (Notifiable Disease) হিসেবে ঘোষণার নির্দেশ দেয়। হাইকোর্ট স্কুলগুলিতে সাপ দংশনের সমস্যা মোকাবিলায় আরও অ্যান্টিভেনম তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিল।
২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর ওয়ানাড জেলার সুলতান বাথেরির একটি সরকারি স্কুলে এক স্কুলছাত্রীর সাপের কামড়ে মৃত্যুর পর এই সংক্রান্ত দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলাগুলির শুনানির পরই আদালত এই নির্দেশ দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছিল, সাপ দংশনের সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন দপ্তরের ভূমিকা সমন্বয় করার জন্য রাজ্যে কোনো সমন্বিত নীতি নেই। ভারতের অনেক রাজ্যই সাপ দংশনকে নোটিফায়েবল রোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা ঘটনাগুলির রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক করে। কারণ নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া নীতিগত হস্তক্ষেপ কার্যকর হয় না। আদালত গত বছর নভেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের নির্দেশ মেনে কেরল পাবলিক হেলথ অ্যাক্ট, ২০২৩-এর অধীনে সাপ দংশনকে দুই মাসের মধ্যে নোটিফায়েবল রোগ করার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্যকে। অন্যদিকে, মানববসতিতে সাপের আনাগোনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কেরল বন দপ্তর মানুষ-সাপ মিথস্ক্রিয়া মোকাবিলায় ‘SARPA’ নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে। বন দপ্তরের সূত্র মতে, ২০২০ সালে চালু হওয়া এই অ্যাপটি রাজ্যে সাপ দংশনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়ক হয়েছে।






