দেশ

ইন্দোরে ফের ‘বিষ-জল’ আতঙ্ক! মহৌ এলাকায় জল পান করে অসুস্থ অন্তত ২২

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এই ঘটনার পর।

Truth of Bengal: মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে পানীয় জলের বিষক্রিয়া ঘিরে ফের চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গতবারের ভয়াবহ স্মৃতি উসকে দিয়ে এবার ইন্দোরের মহৌ এলাকায় দূষিত জল পান করে অন্তত ২২ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে ৯ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এই ঘটনার পর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মহৌ এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের অসুস্থ হওয়ার খবর আসতে থাকে। বমি, ডায়েরিয়া এবং পেটের যন্ত্রণার মতো একই উপসর্গ নিয়ে একের পর এক বাসিন্দা স্থানীয় হাসপাতালে ভিড় জমাতে শুরু করেন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অসুস্থের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান জেলাশাসক শিবম বর্মা। স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্য়েই এলাকায় পৌঁছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছে। যারা গুরুতর অসুস্থ, তাঁদের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।

ইন্দোরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের চরম গাফিলতির কারণেই বারবার এমন প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটছে। এর আগে ইন্দোরের ভগীরথপুরা এলাকায় পানীয় জলের লাইনে ফাটল ধরে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেবার একটি শৌচাগারের ঠিক নিচে পানীয় জলের পাইপ ফেটে যাওয়ায় শৌচাগারের বর্জ্য জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশে বিষাক্ত হয়ে ওঠে। সেই দূষিত জল পান করে শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়েছিলেন। সরকারি হিসেবে সেবার অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ছিল মৃতের সংখ্যা ২৫ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

ভগীরথপুরার সেই মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মহৌ এলাকার এই বিষক্রিয়া জনমানসে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পানীয় জলের শুদ্ধতা বজায় রাখতে প্রশাসন যে এখনও উদাসীন, এই ঘটনা তাকেই প্রমাণ করছে বলে মনে করছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগ পুরো এলাকাটি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং জলের উৎসগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

Related Articles