উত্তরাখণ্ড-গুজরাটের পর এবার মধ্যপ্রদেশ! তুমুল হট্টগোলের মাঝে পাশ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি
মধ্যপ্রদেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের লক্ষ্যে গত ১৯ জুলাই বিলের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছিল রাজ্য মন্ত্রিসভা
Truth of Bengal: উত্তরাখণ্ড, গুজরাট এবং অসমের পর এবার বিজেপি-শাসিত মধ্যপ্রদেশেও বিধানসভায় পাশ হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল। বিরোধীদের প্রবল আপত্তির মধ্যেই মঙ্গলবার ধ্বনি ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রস্তাবিত আইন সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে। বিলের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বিরোধী দল। মধ্যপ্রদেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের লক্ষ্যে গত ১৯ জুলাই বিলের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানিয়েছিলেন, বিধানসভার বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিলটি পেশ করা হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার বিধানসভায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। বিল পেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। তাঁর অভিযোগ, তোষণের রাজনীতির কারণেই কংগ্রেস এই আইনের বিরোধিতা করছে এবং একে আদিবাসী-বিরোধী বলে প্রচার করছে।
বিলটি উত্থাপনের পরই তীব্র প্রতিবাদ জানায় কংগ্রেস। বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য প্রস্তাবটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি তোলা হয়। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেই দাবি খারিজ হয়ে যায় এবং ধ্বনি ভোটে বিলটি পাশ হয়। এবার রাজ্যপালের অনুমোদন মিললে তা আইনে পরিণত হবে। পাশ হওয়া বিলে তিন তালাক এবং বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। সব ধর্মের নাগরিকের ক্ষেত্রে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অভিন্ন নিয়ম কার্যকর করার প্রস্তাবও রয়েছে। লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একাধিক নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্পর্ক শুরু হওয়ার এক মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের বিধান রয়েছে বিলে। কোনও পুরুষ তাঁর লিভ-ইন সঙ্গিনীকে পরিত্যাগ করলে ওই নারী আদালতের মাধ্যমে খোরপোশ দাবি করতে পারবেন।
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানদেরও সমান আইনি মর্যাদা এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারের অধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দত্তক গ্রহণ, সারোগেসি এবং সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তানদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অধিকার নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেছিলেন, মধ্যপ্রদেশে ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য এক আইন কার্যকর করা হবে। তবে সংবিধানের ৩৪২ এবং ৩৬৬ অনুচ্ছেদের আওতাভুক্ত তফসিলি উপজাতিদের এই আইনের বাইরে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।






