Indore: ইন্দোরের জলে বিষক্রিয়ায় মৃত বেড়ে ১০! বরখাস্ত পুরসভার ৩ উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ার
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নির্দেশে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।
Truth of Bengal: দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে পরিচিত ইন্দোরে নলবাহিত পানীয় জল থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষক্রিয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বেসরকারি সূত্রের খবর, দূষিত জল পান করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এই সংখ্যাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মধ্যপ্রদেশের এই শহরে। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নির্দেশে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ইন্দোর পুর কর্পোরেশনের জনস্বাস্থ্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাব-ইঞ্জিনিয়ার শুভম শ্রীবাস্তব, জোনাল অফিসার শালিগ্রাম সিটোলে এবং সহকারী ইঞ্জিনিয়ার যোগেশ জোশীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আইএএস অফিসার নবজীবন পানওয়ারের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা পাইপলাইন মেরামতির টেন্ডারে দেরির কারণ খতিয়ে দেখবে।
স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাগীরথপুরা এলাকায় ব্যাপক স্বাস্থ্য সমীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার ৯৯২টি বাড়িতে সমীক্ষা চালিয়ে ৩৯ হাজার ৮৫৪ জনকে পরীক্ষা করেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৫৬ জনের শরীরে সংক্রমণের লক্ষণ মিলেছে। বর্তমানে ১৬২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ২৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সরবরাহ করা জল থেকে দুর্গন্ধ আসছিল এবং স্বাদও ছিল কটু। অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইন্দোর পুর কমিশনার দিলীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন, মূল পানীয় জলের পাইপলাইনে একটি লিকেজ পাওয়া গেছে। ওই লিকেজের পাশেই সম্প্রতি একটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছিল, যেখান থেকে বর্জ্য মিশে জল বিষাক্ত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। প্রশাসন বর্তমানে গোটা এলাকায় জল ফুটিয়ে খাওয়ার জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। তবে পরিচ্ছন্নতম শহরের তকমা থাকা সত্ত্বেও কেন এমন বিপর্যয় ঘটল, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।






