ইতিহাসের পাতায় ভারতীয় টাকার বৃহত্তম পতন, ১ ডলারের দাম এখন ৯৩ পার
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যেভাবে আকাশছোঁয়া হচ্ছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় মুদ্রার ওপর।
Truth of Bengal: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি এসে লাগল ভারতের অর্থনীতিতে। শুক্রবার বিশ্ববাজারে বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় টাকা। ডলারের তুলনায় টাকার দামের ঐতিহাসিক পতন ঘটে তা ৯৩.২৪ টাকার রেকর্ডে পৌঁছে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যেভাবে আকাশছোঁয়া হচ্ছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় মুদ্রার ওপর। এই প্রথমবার ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় টাকা ৯৩-এর গণ্ডি অতিক্রম করল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মার্কিন ডলারের ওপরই বেশি ভরসা রাখছেন।
টাকার এই অবমূল্যায়নের ধারা গত কয়েকদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। গত ৪ মার্চ প্রথমবার ধাক্কা খেয়ে টাকার দাম ৯২-এর ঘর পেরিয়ে ৯২.১৭ টাকায় দাঁড়ায়। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে সেই পতন আরও গভীর হয় এবং শুক্রবার সকালে তা সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতদিনের তুলনায় টাকার মান প্রায় ০.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখন ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে, যার ফলে ভারতকে তেল আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছায়, তবে ডলার প্রতি ভারতীয় টাকার মান ৯৪ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।
এই অর্থনৈতিক সংকটের মূলে রয়েছে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যেকার তীব্র যুদ্ধ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। তেহরানসহ একাধিক এলাকা এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এর পাল্টা জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাশিবির এবং ইজরায়েলে লাগাতার আক্রমণ চালাচ্ছে। দুই পক্ষই একে অপরের তেল ও গ্যাস পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ভারতের মতো দেশের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক কারণ প্রয়োজনীয় তেল ও গ্যাসের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যদিও শুক্রবার ভারতের শেয়ার বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গিয়েছে এবং সেনসেক্স ৮০০ পয়েন্টের ওপর ঘোরাফেরা করছে, কিন্তু টাকার দামের এই ক্রমাগত রক্তক্ষরণ দেশের আমদানিকারক ও সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, ভারতীয় মুদ্রার ওপর চাপের বোঝা ততটাই বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।






