দেশ

ডলারের সেঞ্চুরি কি সময়ের অপেক্ষা? ৯৫-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারতীয় মুদ্রার ঐতিহাসিক পতন

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ডলারের তুলনায় টাকার মান আরও ০.৩ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় দেশের আর্থিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

Truth of Bengal: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি আঁচ পড়েছে ভারতীয় মুদ্রার ওপর। গত শুক্রবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দাম ৯৪.৬৬ টাকায় ঠেকলেও, এবার তা সব রেকর্ড ভেঙে ৯৫ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৫.২০ টাকা, যা ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসে সর্বনিম্ন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ডলারের তুলনায় টাকার মান আরও ০.৩ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় দেশের আর্থিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

টাকার এই রেকর্ড পতন রুখতে সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা আরবিআই একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। বিশেষ করে ব্যাঙ্কগুলোতে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল যাতে মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তবে রবিবারের এই নতুন পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সেই চেষ্টা আপাতত বিশেষ কাজে আসেনি। মূলত ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যেকার বিধ্বংসী সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়াই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। তেহরানসহ ইরানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলো এখন এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই দুই হাজার ছাড়িয়েছে।

এমন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে বড়সড় ধস নেমেছে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতের সেনসেক্স ও নিফটির ওপর। অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিচ্ছেন, যা টাকার দামকে আরও নিচের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও ভারত, রাশিয়া, চিন ও স্পেনের মতো দেশগুলো বারবার শান্তি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু কোনো পক্ষই যুদ্ধ বিরতিতে রাজি না হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ অব্যাহত রয়েছে। এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতীয় মুদ্রার মান আগামী দিনে আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Related Articles