দেশ

নারী ক্ষমতায়নের পথে এক ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’! বিশেষ অধিবেশন শুরুর আগে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেখানে এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

Truth Of Bengal: সংসদের বিশেষ অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল পেশকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেন। মোদি সমাজমাধ্যমে জানান, মা ও বোনেদের সম্মান জানানোই দেশকে সম্মান জানানোর নামান্তর এবং এই ভাবনাকে পাথেয় করেই সরকার এগিয়ে চলেছে। তবে মহিলা সংরক্ষণ বিলের আড়ালে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার জন্য যে আসন পুনর্বিন্যাস বিল আনা হচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে কংগ্রেস, তৃণমূল ও ডিএমকে-সহ বিরোধী দলগুলি।

কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেখানে এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ২০২৩ সালে পাস হওয়া ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এ বলা হয়েছিল যে, জনগণনার পরেই এই আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্র সরকার জনগণনার জন্য অপেক্ষা না করে দুটি বিষয়কে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় বিরোধীরা সরব হয়েছেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন এই বিলের খসড়া পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৯ সালের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই বিজেপি নিজেদের সুবিধামতো আসন বিন্যাসের ‘বিপজ্জনক পরিকল্পনা’ করছে। এই আবহে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতিনিধিরাও দিল্লিতে জরুরি বৈঠকে বসে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করেছেন।

অন্যদিকে, বিরোধীদের এই সমালোচনাকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মোদী সরকার। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে গুজব ছড়ানো উচিত নয়। তাঁর মতে, আসন পুনর্নির্ধারণের অজুহাত দেখিয়ে আদতে মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করছে বিরোধী দলগুলি। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য নারী শক্তিকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া এবং সংসদীয় কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা। সব মিলিয়ে সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতির পারদ চড়ছে।

Related Articles