ব্যবসা

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ক আলোচনা

এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুনভাবে বিন্যস্ত করেছে

রাহুল চট্টোপাধ্যায়: ক্যালকাটা চেম্বার অফ কমার্স ‘ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ২০২৬ এবং অন্যান্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ): সুযোগ ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি’- শীর্ষক একটি কৌশলগত আলোচনা সভার আয়োজন করলো। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমবায় এবং সেচ ও জলপথ দফতর এর দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত মুখ্য সচিব আইএএস আধিকারিক ড. কৃষ্ণ গুপ্ত এবং প্রাক্তন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (বৈদেশিক বাণিজ্য) এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলির জোনাল উন্নয়ন কমিশনার, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক, ভারত সরকার, আইটিএস (অবসরপ্রাপ্ত) আধিকারিক সঞ্জীব নন্দওয়ানি, সদ্য ঘোষিত ভারত-আমেরিকা অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো এবং ভারতের বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কর্মসূচির রূপান্তরমূলক প্রভাব বিশ্লেষণ করেন।

স্বাগত ভাষণে ক্যালকাটা চেম্বার অফ কমার্স এর সভাপতি অনন্ত সাহারিয়া বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে শক্তিশালী করে, আমাদের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সহায়তা করে।ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তি একাই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও উন্নত বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়, ভারতের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাকে মজবুত করে এবং কোনও একক বাণিজ্য অংশীদারের উপর নির্ভরতা হ্রাস করে।

দীর্ঘদিনের আলোচনার পর, ২০২৬ সালের এই বাণিজ্য চুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুনভাবে বিন্যস্ত করেছে। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর পারস্পরিক শুল্ক প্রায় ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মার্কিন বাজারে রপ্তানিকারকদের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা সৃষ্টি করেছে। ড. কৃষ্ণ গুপ্ত উল্লেখ করেন যে, এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের মার্কিন বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে, যা বস্ত্র, অলংকার শিল্পের মতো শ্রমনির্ভর খাত গুলিকে বিশেষভাবে উপকৃত করবে। এই চুক্তির আওতায় মসলা, চা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ভারতীয় কৃষিজ পণ্যের উপর শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, পাশাপাশি দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলিকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।

আলোচনায় নতুন ট্রাস্ট কাঠামো—প্রযুক্তি, গবেষণা ও ব্যবহারকারীভিত্তিক নিরাপত্তা আস্থা—নিয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়, যা পূর্ববর্তী উদ্যোগগুলিকে প্রতিস্থাপন করে প্রতিরক্ষা ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদনের উপর জোর দেয়। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য এবং ওমানের সঙ্গে সদ্য সম্পন্ন হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলির প্রভাব এবং গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের সঙ্গে চলমান নতুন আলোচনাও পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনাসভাটি সঞ্চালনা করেন সঞ্জীব নন্দওয়ানি।চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অনুরাগ ঝুনঝুনওয়ালা, ড. কৃষ্ণ গুপ্ত এবং সঞ্জীব নন্দওয়ানিকে ধন্যবাদ জানান ভারত-আমেরিকা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির জটিলতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও ইএফটিএ দেশগুলির সঙ্গে ভারতের চলমান আলোচনার সূক্ষ্ম দিকগুলি নিয়ে তাঁদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার জন্য।

সভাটি শিল্প ও সরকারের মধ্যে আরও সুদৃঢ় সহযোগিতার আহ্বানের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়, যাতে নিয়ন্ত্রক জটিলতা দূর করে বাণিজ্য চুক্তিগুলির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়। ওই আলোচনা সভায় অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষা ও উচ্চ শিক্ষা এবং জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বিনোদ কুমার।

Related Articles