বিল অনুমোদনে রাজ্যপালের সীমা নির্ধারণ করল সুপ্রিম কোর্ট
সংবিধানের ১৪৩ ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত বিশেষ অধিকারকে সামনে রেখে তিনি শীর্ষ আদালতের রায় নিয়ে ১৪টি প্রশ্ন তুলেছেন।
Truth Of Bengal: রাজ্যপাল কোনও বিল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারবেন না। এমনকি যদি রাজ্যপাল বিল অনুমোদন না দেন, তবে সেই বিলকে বিধানসভায় ফেরত পাঠাতে হবে। প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, রাজ্যপালরা যদি কোনও বিল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখেন, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ভঙ্গ করবে। তবে একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বিল পাশের জন্য কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করা যাবে না।
গত ১২ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দিয়েছিল, আইনসভায় পাশ হওয়া কোনও বিল রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারবেন না। সেই বিল নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রশ্ন উঠেছিল, সুপ্রিম কোর্ট কি রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতিকে এইভাবে ‘নির্দেশ’ দিতে পারে? পালটা যুক্তিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শীর্ষ আদালত সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে বিশেষ রায় দিতে পারে।
সেই রায়ে আপত্তি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সংবিধানের ১৪৩ ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত বিশেষ অধিকারকে সামনে রেখে তিনি শীর্ষ আদালতের রায় নিয়ে ১৪টি প্রশ্ন তুলেছেন। যার ফলে ওই রায়ের পর্যালোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স বেঞ্চ গঠিত হয়। প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বে এই বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং বিচারপতি এএস চন্দরকর।
বেঞ্চের রায়ে জানানো হয়েছে, রাজ্যপাল যদি বিলের অনুমোদন না দেন, তবে সেটি বিধানসভায় ফেরত পাঠাতে হবে। কোনওভাবেই বিল পাশের পথে বাধা তৈরি করতে পারবেন না। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যপালদের দায়িত্ব হলো নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করা এবং সংবিধানের উদ্দেশ্য রক্ষা করা।






