এক ধাক্কায় বাড়ল অটো গ্যাসের দাম! নাজেহাল শহরবাসী
মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ফের বৃদ্ধি পাওয়ায় যাতায়াত খরচ একলাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Truth of Bengal: কলকাতার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথে এবার জোড়া বিপত্তি। একদিকে আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম, অন্যদিকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কারণে রাস্তা থেকে গণপরিবহন তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে নাজেহাল হওয়ার অপেক্ষায় শহরবাসী। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কলকাতায় অটোয় ব্যবহৃত এলপিজি বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় লিটার প্রতি ৮ টাকা বেড়ে গিয়েছে। ফলে এখন থেকে প্রতি লিটার গ্যাসের জন্য চালকদের গুনতে হবে ৭০ টাকা ৬৮ পয়সা। মাসের শুরুতেই এই গ্যাসের দাম একবার বেড়েছিল, যা মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ফের বৃদ্ধি পাওয়ায় যাতায়াত খরচ একলাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানির এই অগ্নিমূল্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গ্যাসের জোগানে টান পড়ায় শহরের প্রায় ৩০ শতাংশ অটো ইতিমধ্যেই রাস্তা থেকে বসে গিয়েছে। যে কটি অটো চলছে, সেগুলোতেও অনিয়মিত পরিষেবা এবং দ্বিগুণ ভাড়ার অভিযোগ তুলছেন যাত্রীরা। এলপিজি পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক চালকই রুটে গাড়ি নামাতে পারছেন না। এই সঙ্কটের মধ্যেই নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। আগামী মাসের ৫ তারিখ থেকে রাস্তা থেকে বিপুল সংখ্যক সরকারি ও বেসরকারি বাস তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে পরিবহন মালিকদের সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে।নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এবার বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এই বাহিনীর যাতায়াতের জন্য পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রায় ১৬০০ বেসরকারি বাস রিকুইজিশন বা অধিগ্রহণ করেছে। কলকাতা, বারাসত, কসবা এবং আলিপুর আরটিও-র মাধ্যমে ধাপে ধাপে স্কুল বাস, অ্যাপ ক্যাব এবং পুলকারও নির্বাচনের কাজে তুলে নেওয়া হবে। এমনকি প্রতিবেশী রাজ্য অসমে নির্বাচনের প্রয়োজনে উত্তরবঙ্গের কিছু বাসও সেখানে পাঠানো হতে পারে। ফলে শহর ও শহরতলির রাস্তায় বাসের আকাল দেখা দেওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যান্য বছর বাসের অভাব হলে অটো পরিষেবা পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়। কিন্তু এবার এলপিজি সঙ্কটে অটোর সংখ্যাও সীমিত। সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসেসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা জানিয়েছেন, এবার নির্বাচনের দফার সংখ্যা এবং ফোর্সের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অনেক বেশি গাড়ি তুলে নিতে হচ্ছে। বর্তমানে শহরের রাস্তায় যে আড়াই হাজার বেসরকারি বাস চলে, তার মধ্যে প্রায় দুই হাজারই ভোটের কাজে চলে যেতে পারে। ফলে অফিস যাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ আগামী দিনগুলোতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে পারেন।




