চিকিৎসা খরচে মিলবে রেহাই? মাত্রাতিরিক্ত বিল রুখতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ কেন্দ্রের
মূলত হাসপাতালের বিলে স্বচ্ছতা আনা এবং সাধারণ রোগীদের ওপর থেকে আর্থিক বোঝা কমানোর লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে
Truth of Bengal: চিকিৎসা সরঞ্জামের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিঞ্জ থেকে শুরু করে পেসমেকারের মতো জীবনদায়ী সরঞ্জামের বিক্রয়মূল্যের ওপর একটি নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা বা সর্বোচ্চ মুনাফার হার বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে সরকার। মূলত হাসপাতালের বিলে স্বচ্ছতা আনা এবং সাধারণ রোগীদের ওপর থেকে আর্থিক বোঝা কমানোর লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বর্তমানে চিকিৎসা সরঞ্জামের কেনা দাম এবং হাসপাতালের বিলের মধ্যে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উদাহরনস্বরূপ বলা হয়েছে, যে সিরিঞ্জের উৎপাদন খরচ মাত্র ৩ টাকা, রোগীদের ক্ষেত্রে তার বিল করা হচ্ছে ৩০ টাকা। একইভাবে ২৫ হাজার টাকার পেসমেকারের দাম নেওয়া হচ্ছে প্রায় ২ লক্ষ টাকা। সবথেকে ভয়াবহ চিত্র দেখা গিয়েছে হার্ট ভালভ বা হৃদযন্ত্রের কপাটির ক্ষেত্রে। অভিযোগ উঠেছে যে, বিদেশ থেকে ৪ লক্ষ টাকায় আমদানি করা হার্ট ভালভ রোগীদের ক্ষেত্রে ২৬ থেকে ৩০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। গ্লাভস বা ক্যানুলার মতো সস্তা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে অত্যন্ত দামী চিকিৎসা যন্ত্র— সব ক্ষেত্রেই এই মুনাফার হার নির্দিষ্ট করার কথা ভাবছেন সরকারি আধিকারিকরা।
চিকিৎসা সরঞ্জামের এই লাগামহীন দামের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। বর্তমানে দেশে চিকিৎসা সংক্রান্ত মুদ্রাস্ফীতির হার বছরে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে বিমা সংস্থাগুলিও আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিমার প্রিমিয়াম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করছে। চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান খরচ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিমা দাবির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ফলে হাসপাতাল ও বিমা সংস্থাগুলির মধ্যে বিবাদও দিন দিন বাড়ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের পর থেকে হাসপাতালে ভর্তির খরচ সাধারণ মূল্যবৃদ্ধির হারের তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে বেড়েছে। স্বাস্থ্যবিমার পরিধি বাড়লেও দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের কাছে এখনও কোনও আর্থিক সুরক্ষা নেই। অতিরিক্ত খরচের ভয়ে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে দেরি করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা সরঞ্জামের দাম কমানোর পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নই হতে পারে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান। সরকার এই প্রস্তাব কার্যকর করলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।






