তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল, ‘গৃহদাহে’র মধ্যেই দিল্লি গেলেন মমতা
কংগ্রেসের হাত ধরাই কি এখন শেষ ভরসা? অস্তিত্ব বাঁচাতে রাহুলের ‘একের বিরুদ্ধে এক’ তত্ত্বে সায় দিচ্ছেন দিদি!
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে আদি তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই বঙ্গে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। একদিকে পরিষদীয় দল দুই ভাগে বিভক্ত, অন্যদিকে লোকসভার দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ নিয়ে সংসদীয় দলেও বড় ভাঙনের অশনি সংকেত। এমনকি খোদ কলকাতা পুরসভাও হাতছাড়া হওয়ার মুখে এবং ডিম হামলার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি বাতিল করতে হয়েছে কাউন্সিলরদের বৈঠক। এই অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ ভাঙন চিন্তা মাথার ওপর নিয়েই সোমবার দুপুরে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার রাজধানীতে কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বাকি শরিক দলগুলির সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেগা বৈঠকে বসবেন তিনি। জানা গিয়েছে, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন।
প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে কংগ্রেসের হাত ধরাই একমাত্র ‘অপশন’
বঙ্গে সরকার হারানোর পর তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা-কাউন্সিলররা জনরোষের মুখে পড়ছেন, কেউ পকসো তো কেউ তোলাবাজি মামলায় দেদার গ্রেপ্তার হচ্ছেন। এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাজ্যে ফের দলের মাটি শক্ত করা এবং জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার জন্য তৃণমূলের সামনে এখন একটাই রাস্তা, তা হল জাতীয় স্তরে জোট মজবুত করে বিজেপিকে পরাস্ত করা।
বর্তমানে সংসদে তৃণমূল এখনও দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল। আগামী লোকসভা নির্বাচনে সেই আধিপত্য ধরে রাখতে তারা মরিয়া। কিন্তু বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি মমতার অনুকূলে নেই, ফলে একা লড়াই করে আসন ধরে রাখা অসম্ভব। ওয়াকিবহাল মহলের খবর, এই বাস্তবটা বুঝেই মঙ্গলবারের বৈঠকে গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের দেওয়া ‘একের বিরুদ্ধে এক’ (বিজেপির বিরুদ্ধে একজনই বিরোধী প্রার্থী) তত্ত্বকে পূর্ণ সমর্থন জানাতে চলেছেন মমতা।
বৈঠকের আগেই অস্বস্তি! খড়্গেকে কড়া চিঠি সিপিএমের
তবে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের ঠিক আগেই ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে নতুন করে চরম অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে, যার মূলে রয়েছে সিপিএম। কেরল বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে রাহুল গান্ধী বামেদের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে ‘গোপন সমঝোতা’ বা আঁতাতের অভিযোগ তুলেছিলেন।
এতেই মারাত্মক চটেছেন আলিমুদ্দিনের নেতারা। সূত্রের খবর, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে একটি কড়া চিঠি লিখেছেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য তথা প্রবীণ নেতা এম এ বেবি। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শরিক দলের বিরুদ্ধে এমন কুৎসিত অভিযোগ কেন আনা হল, তা নিয়ে কংগ্রেসের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বৈঠকের ঠিক আগে এই চিঠি প্রকাশ্যে আসা বিরোধী ঐক্যের বার্তায় বড়সড় ধাক্কা দিল। এখন দেখার, এই সমস্ত অভ্যন্তরীণ কাঁটা উপড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির বিরুদ্ধে কোনও যৌথ রূপরেখা তৈরি করতে পারেন কি না।






