রাজ্যের খবর

মেসি কাণ্ডের পর এবার ‘এভারেস্ট কেলেঙ্কারি’! অরূপের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক এভারেস্টজয়ী পিয়ালি বসাক

লাশ খোঁজার কোটি কোটি টাকা গায়েব? ছন্দা গায়েন-দীপঙ্করদের মৃত্যু নিয়েও এবার মারাত্মক দুর্নীতির পর্দাফাঁস!

Truth of Bengal: লিওনেল মেসির কলকাতা সফর সংক্রান্ত কোটি কোটি টাকার টিকিট জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির মামলায় সোমবারই প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে তলব করেছে বিধাননগর পুলিশ। তাঁর বাড়ির দরজায় নোটিস সাঁটানোর পর যখন সিআইডি ও পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রাক্তন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আছড়ে পড়ল আরও এক মহাবিস্ফোরণ। এবার অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগ তুললেন বাংলার গর্ব তথা মাউন্ট এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী পিয়ালি বসাক। তাঁর সাফ দাবি, বিদায়ী তৃণমূল সরকারের আমলে শুধু সমতলে নয়, পর্বতারোহন অভিযানের ক্ষেত্রেও চলেছে দেদার গুন্ডারাজ ও কোটি কোটি টাকার কাটমানি কেলেঙ্কারি!

নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ, বাদ গেছে ৫ জনের হাত-পায়ের আঙুল!

হুগলির চন্দননগরের বাসিন্দা পিয়ালি বসাক সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে জানান, ২০১৮ সালে রাজ্য সরকারের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ পর্বতারোহন অভিযানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অভিযানের জন্য যাবতীয় তাবু, স্লিপিং ব্যাগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কিট সরবরাহ করেছিল খোদ অরূপ বিশ্বাসের মন্ত্রক।

পিয়ালির অভিযোগ, সরকারের দেওয়া সেই সমস্ত তাবু ও স্লিপিং ব্যাগ এতটাই নিম্নমানের ছিল যে মাত্র ২১ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছাতেই হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় ১০ জন পর্বতারোহীর মধ্যে ৫ জনের মারাত্মক ‘ফ্রস্টবাইট’ হয়ে যায়। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছিল যে পরবর্তীতে অস্ত্রোপচার করে ওই ৫ জনের হাত ও পায়ের সমস্ত আঙুল কেটে বাদ দিতে হয়। পিয়ালির দাবি, তৎকালীন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের তৈরি করে দেওয়া বিশেষ কমিটিতে থাকা দেবদাস নন্দী, সত্যরূপ সিদ্ধান্ত, দেবরাজ দত্ত ও উজ্জ্বল রায়দের মদতেই এই চরম জালিয়াতি চলেছিল।

লাশ খোঁজার ২ কোটি টাকা কোথায় গেল? শেরপাকে দিয়ে মারধরের অভিযোগ!

পিয়ালি বসাকের অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। ছন্দা গায়েন, দীপঙ্কর ঘোষ, গৌতম ঘোষদের মতো প্রখ্যাত বাঙালি পর্বতারোহীদের নিখোঁজ হওয়া এবং মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি এক হাড়হিম করা দাবি করেন। পিয়ালির কথায়, “পাহাড়ে হারিয়ে যাওয়া এই সমস্ত পর্বতারোহীদের মৃতদেহ খুঁজে বের করার জন্য রাজ্য সরকার এক-একজন পিছু নেপালের এজেন্সিকে ২ কোটি টাকা করে দিয়েছিল। কিন্তু নেপালের সেই রেসকিউ এজেন্সি সাফ জানিয়েছে যে তারা কোনও টাকাই পায়নি! তাহলে সরকারি তহবিলের সেই কোটি কোটি টাকা কার পকেটে গেল?”

এই বিষয়ে অরূপ বিশ্বাসের দফতরে সশরীরে অভিযোগ জানাতে গেলে মন্ত্রীর দেহরক্ষীরা পিয়ালিকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় বলেও অভিযোগ। পিয়ালির আরও মারাত্মক দাবি, ২০১৯ সালে তাঁর এভারেস্ট সামিটের সময় যাতে তিনি চূড়ায় পৌঁছাতে না পারেন, তার জন্য ওই কমিটির একাংশ নেপালি শেরপাকে মোটা টাকা খাইয়ে ২৮ হাজার ফুট উচ্চতায় ডেথ জোনের মুখে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন ও মারধর করিয়েছিল। ছাব্বিশের বঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই যেভাবে একের পর এক দুর্নীতির কঙ্কাল বেরোচ্ছে, তাতে অরূপ বিশ্বাসের জেলযাত্রা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Articles