দেশ

বিজেপি ছাড়লেন আন্নামালাই! জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুর হেভিওয়েট নেতার ইস্তফা গৃহীত

তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের আগেই বিজেপি নেতৃত্ব ইস্তফা গ্রহণের কথা জানিয়ে দেয়

Truth of Bengal: জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন তামিলনাড়ু বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাই। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন আন্নামালাইয়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।গত কয়েকদিন ধরেই আন্নামালাইয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। বৃহস্পতিবার তিনি সমাজমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে জানান, শুক্রবার নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করবেন। সেই ঘোষণার পর থেকেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়। তবে তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের আগেই বিজেপি নেতৃত্ব ইস্তফা গ্রহণের কথা জানিয়ে দেয়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপির সঙ্গে আন্নামালাইয়ের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসে। সিবিএসই-র তিন ভাষা নীতি এবং এআইএডিএমকের সঙ্গে বিজেপির জোট নিয়ে তিনি একাধিকবার ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় নাইনার নাগেন্দ্রনকে। নির্বাচনে বিজেপির হতাশাজনক ফলাফলের পর দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব আরও বাড়ে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। ভোটে তাঁকে প্রার্থী না করা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও আন্নামালাই দাবি করেছিলেন, তিনি নিজেই নির্বাচনে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

গত ২ জুন দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর বৈঠকও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। প্রায় আধ ঘণ্টার ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর জল্পনা শুরু হয়েছিল যে বিজেপি নেতৃত্ব তাঁকে দলে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। মাত্র ৪১ বছর বয়সী প্রাক্তন আইপিএস অফিসার আন্নামালাইকে তামিলনাড়ুতে বিজেপির অন্যতম মুখ হিসেবে তুলে ধরেছিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু দলত্যাগের সিদ্ধান্তে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তামিল রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার পথেই এগোতে পারেন আন্নামালাই। তবে বিজেপি ছাড়ার পর তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি। ফলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আন্নামালাইয়ের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে কৌতূহল ও জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।