কলকাতা

“যেখানেই হাত দিচ্ছি, পচা দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে!”, দুর্নীতি নিয়ে মমতার সরকারকে তুলোধনা শুভেন্দুর

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৩ লক্ষ পুরুষ! ২৭ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা ধরে মমতার প্রকল্প নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য ফাঁস করলেন শুভেন্দু

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়লাভের পর নির্বাচনী ‘সঙ্কল্পপত্র’ ধরে ধরে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ নতুন বিজেপি সরকার। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে নবান্নে যে ফাইলে বা যে কাজেই হাত দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), সেখানেই নাকি পরতে পরতে মিলছে পূর্বতন সরকারের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সমস্ত অপরাধীদের শাস্তি দিতে গেলে শেষ পর্যন্ত কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানকে বিশাল জেলে রূপান্তরিত করতে হবে! রবিবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিজেপির এক বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে এভাবেই তীব্র কায়দায় খোঁচা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ভয়ঙ্কর জালিয়াতি! সিএএ ও ভুয়ো ভোটার কার্ডের খেলা

এদিন দলীয় কর্মীদের সামনে বিগত জমানার দুর্নীতির খতিয়ান দিতে গিয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “আগে ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হত। আমরা ক্ষমতায় এসে স্ক্রুটিনি করতেই এর মধ্যে থেকে এমন ২৭ লক্ষ উপভোক্তাকে ধরেছি, যাঁদের ভোটার তালিকাতেই কোনও নাম নেই! সিএএ (CAA)-তে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের বাদ দিয়েই এই ২৭ লক্ষ ভুয়ো নাম পাওয়া গিয়েছে।”

এখানেই শেষ নয়, আরও এক মারাত্মক তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “মহিলাদের জন্য তৈরি এই প্রকল্পে প্রায় ৩ লক্ষ পুরুষ মাসের পর মাস টাকা পেয়ে গিয়েছেন! শুধু মুর্শিদাবাদ জেলাতেই এই ভুয়ো পুরুষ উপভোক্তার সংখ্যা সাড়ে চার হাজার এবং কৃষ্ণনগরের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলেই এমন ২৭৩ জনের হদিশ মিলেছে। এ তো ভয়ঙ্কর দুর্নীতি!”

নিজের সরকারের চালু করা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র পক্ষে সওয়াল করে তিনি বলেন, শুরুতে অনেক সমালোচনা হলেও এখন সবাই বুঝছেন যে জনগণের ট্যাক্সের টাকা এভাবে জলে ফেলা যায় না। শুভেন্দুর আশ্বাস, তাঁর সরকার যে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে, তার সুফল আগামী ৫০ বছর পাবেন পশ্চিমবঙ্গবাসী।

অহংকার নয়, ‘আমি নয় আমরা’ মন্ত্রে কাজ করার বার্তা

বিগত সরকারের নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে শুভেন্দু কড়া ভাষায় বলেন, “যেখানেই হাত দেওয়া হচ্ছে… পচা দুর্গন্ধ বার হচ্ছে। কেউ চাইলে নবান্নে আসতে পারেন, টাইম নিয়ে চা খাওয়াব। তবে দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই হবে জেলে।”

পাশাপাশি, দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে সাংগঠনিক বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ক্ষমতায় এসেছেন বলে কারও মধ্যে যেন বিন্দুমাত্র দম্ভ বা অহংকার তৈরি না হয়। মানুষের বিরাট প্রত্যাশা নিয়ে সকলকে একসঙ্গে ‘আমি নয়, আমরা’ মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে কাজ করতে হবে। সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয় রেখে প্রথম ক্যাবিনেটে নেওয়া শহিদ ৩১৫ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারকে চাকরি ও ৫ লক্ষ টাকার সরকারি প্যাকেজ জুনের মধ্যেই ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related Articles