দেশ

রেলের খাবারের স্বাস্থ্যবিধি নজরদারিতে এআই, ৮০০-র বেশি রান্নাঘরে কড়া নজর আইআরসিটিসি-র

আইআরসিটিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এআই-ভিত্তিক ব্যবস্থা মূলত খাবারের স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নয় ধরনের ত্রুটি শনাক্ত করতে সক্ষম।

Truth of Bengal: ট্রেনে পরিবেশিত খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করল ভারতীয় রেলওয়ের খাদ্য পরিষেবা সংস্থা আইআরসিটিসি। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৮০০-রও বেশি রান্নাঘরে বসানো হয়েছে ২,৩৯৪টি ক্যামেরা, যা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে খাবার তৈরির প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করছে। আইআরসিটিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এআই-ভিত্তিক ব্যবস্থা মূলত খাবারের স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নয় ধরনের ত্রুটি শনাক্ত করতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে কর্মীদের হেয়ারনেট ব্যবহার, স্বচ্ছ গ্লাভস পরা, রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা, মপিং ও ওয়াইপিংয়ের মান, এবং ইঁদুর, মাছি বা আরশোলার উপস্থিতি শনাক্ত করা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ট্রেন যাত্রীদের জন্য প্রায় ৬০ কোটি খাবার পরিবেশন করেছে আইআরসিটিসি।

দিল্লিতে আইআরসিটিসি-র সদর দফতরের ‘ওয়ার রুম’ থেকে এই ব্যবস্থার তদারকি করা হয়। সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রায় আড়াই বছর আগে এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল এবং ধীরে ধীরে আরও রান্নাঘর ও ত্রুটির ধরনকে এর আওতায় আনা হচ্ছে। ক্যামেরাগুলি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে অত্যন্ত দ্রুত অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট রান্নাঘর কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা পাঠায়। এমনকি ৭-৮ মিলিমিটার আকারের ক্ষুদ্র পোকামাকড়ও শনাক্ত করতে পারে এই ব্যবস্থা। তিনি আরও জানান, কোনও সমস্যা ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘরের ম্যানেজারকে বার্তা পাঠানো হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যায়। সাধারণত দু’ঘন্টার মধ্যেই দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৫০টি সতর্কবার্তা বা ‘এরর টিকিট’ তৈরি হয়। গত এক মাসেই তৈরি হয়েছে ১৩,৫৫০টি টিকিট। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ৪,১২৩টি, পূর্বাঞ্চলে ৩,২০৫টি, পশ্চিমাঞ্চলে ২,৬৮৭টি, দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে ২,২২৬টি এবং দক্ষিণাঞ্চলে ১,৩০৯টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। আইআরসিটিসি-র দাবি, হেয়ারনেট না পরাই সবচেয়ে বেশি ধরা পড়া স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা। তবে প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আধিকারিকদের মতে, কখনও কখনও কর্মী হেয়ারনেট পরলেও সেটি সঠিকভাবে না থাকলে এআই সেটিকে নিয়মভঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করে। ফলে মোট সতর্কবার্তার প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল শনাক্তকরণের সম্ভাবনা থাকে।

ট্রেনে খাবারের মান নিয়ে অতীতে একাধিক অভিযোগ ওঠায় রেল মন্ত্রকও কড়া অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি পাটনা-টাটানগর বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে নিম্নমানের দই পরিবেশনের ঘটনায় আইআরসিটিসিকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থাকেও ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। রেল মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে খাবার সংক্রান্ত ১৯ হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩,১৩৭টি ক্ষেত্রে জরিমানা করা হয়েছে। যদিও ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ৭,০২৬টি অভিযোগ থেকে ২০২৪-২৫ সালে অভিযোগের সংখ্যা কিছুটা কমে ৬,৬৪৫ হয়েছে, তবুও তা ২০২০-২১ সালের ২৫৩টি অভিযোগের তুলনায় অনেক বেশি। যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে বলে জানিয়েছে আইআরসিটিসি।

 

Related Articles