তৃণমূল ভবনেও ‘ডিম হামলার’ ভয়! কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক বাতিল মমতার, নতুন মেয়র খুঁজতে গোপন ডেরায় সই-পর্ব?
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর থেকে আদি তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর ও বিধায়কদের ওপর যেভাবে একের পর এক জনরোষ আছড়ে পড়ছে, তাতে এবার চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল খোদ দলের অন্দরমহলে। মদন মিত্র থেকে শুরু করে একাধিক নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া ও ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠার পর, এবার খোদ তৃণমূল ভবনেও একই ধরণের নজিরবিহীন হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই ডিম বৃষ্টির ভয়েই রবিবার বিকেলে ইএম বাইপাসের ধারের দলীয় কার্যালয়ে কলকাতার সমস্ত পুর-কমিশনার ও কাউন্সিলরদের নিয়ে ডাকা অত্যন্ত জরুরি বৈঠকটি বাতিল করতে বাধ্য হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈঠক বাতিলের নেপথ্যে কাউন্সিলরদের চরম ‘নিমরাজি’
তৃণমূলের অন্দরের খবর, রবিবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ তৃণমূল ভবনে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গোয়েন্দা সূত্রে খবর আসে, ওই বৈঠক চলাকালীন বিজেপি আশ্রিত কর্মী-সমর্থক এবং ক্ষুব্ধ আমজনতা কার্যালয়ের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাতে পারে এবং কাউন্সিলরদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে পারে।
এই খবর চাউর হতেই পুরসভার সিংহভাগ কাউন্সিলরই বৈঠকে যোগ দিতে তীব্র অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, এই পরিস্থিতিতে খোলাখুলি দলীয় দফতরে যাওয়া মোটেও নিরাপদ নয়। উচ্চ নেতৃত্বের কাছে কাউন্সিলরদের এই ভীতি ও নিমরাজির বার্তা পৌঁছানোর পরপরই খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
দিল্লির সফরের আগে খারাপ ‘বিজ্ঞাপন’ এড়ানোর চেষ্টা দিদির
রাজনৈতিক মহলের মতে, খুব শীঘ্রই ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে উড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার ঠিক প্রাক্কালে কলকাতার বুকে তৃণমূল ভবনে বা কাউন্সিলরদের গায়ে ডিম ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটলে তা জাতীয় রাজনীতিতে মোটেও ভাল ‘বিজ্ঞাপন’ বা বার্তা দেবে না।
তাই সমস্ত দিক বিচার করে এই জনসমক্ষে বৈঠক করার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটেছে দল। তবে নতুন মেয়র নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া কিন্তু দমে থাকছে না। জানা গিয়েছে, কোনও একটি অজ্ঞাত বা গোপন জায়গায় কাউন্সিলরদের একে একে ডেকে পাঠিয়ে নতুন মেয়র পদপ্রার্থীর সপক্ষে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার গোপন পরিকল্পনা নিয়েছে আদি তৃণমূল নেতৃত্ব।
৩ দিনের ডেডলাইন নবান্নের, ফিরছেন কি শোভন?
প্রসঙ্গত, ফিরহাদ হাকিম মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কলকাতা পুরসভায় (KMC) এক নজিরবিহীন আইনি ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বর্তমান রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই পুরসভাকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছে, কেন এই বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না? এবং তার জন্য মাত্র ৩ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এই চরম সংকটের মাঝেই কলকাতা পুরসভার হটসিটে নতুন মুখ বসাতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক অলিন্দে জোর গুঞ্জন, প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে (Sovan Chatterjee) ফেরানো নিয়ে যখন জোর চর্চা চলছে, ঠিক তখনই আজকের এই বৈঠক বাতিল বঙ্গে এক নতুন রাজনৈতিক নাটকের জন্ম দিল। এখন দেখার, এই গোপন সই পর্বের পর কলকাতার পরবর্তী মেয়র হিসেবে কার নাম সিলমোহর পায়!






