আন্দামানের মিলল বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার
এই মেগা আবিষ্কারকে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী মোদি সরকারের দূরদর্শী ‘সমুদ্র মন্থন’ উদ্যোগের অধীনে আরও একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
Truth of Bengal: ভারতের জ্বালানি উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় সাফল্য এল। আন্দামান উপকূলীয় অববাহিকায় আবার এক বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার আবিষ্কার করেছে ভারত, যা এই সমুদ্র অঞ্চলে খনিজ তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের প্রচেষ্টাকে আরও কয়েক গুণ জোরদার করল। রাষ্ট্রীয় খনিজ তেল উত্তোলন সংস্থা ‘অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড’ (OIL)-এর হাত ধরে এসেছে এই অভাবনীয় সাফল্য। এই মেগা আবিষ্কারকে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী মোদি সরকারের দূরদর্শী ‘সমুদ্র মন্থন’ উদ্যোগের অধীনে আরও একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এই খুশির খবরটি দেশবাসীকে জানান। তিনি ঘোষণা করেন যে, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের পূর্ব উপকূল থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে এবং সমুদ্রের প্রায় ৩৫৫ মিটার গভীর জলের নিচে অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের খনন করা ‘শ্রী বিজয় পুরম-৩’ নামক একটি বিশেষ অনুসন্ধানমূলক কূপে এই উচ্চমানের প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মাটির নিচে ইওসিন স্তরে ১,৯০০ মিটারেরও বেশি গভীরতায় প্রাথমিক উৎপাদন পরীক্ষা (প্রোডাকশন টেস্ট) চালানো হয়েছিল। সেখানে ক্রমাগত ফ্লেয়ারিং বা গ্যাস অগ্নিশিখার মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক গ্যাসের সক্রিয় উপস্থিতি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এই আবিষ্কারের পর বিশেষজ্ঞদের এই ধারণাই আরও শক্তপোক্ত হলো যে, আগামী দিনে আন্দামান অঞ্চলটি ভারতের তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের মানচিত্রে অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হয়ে উঠতে চলেছে।
আন্দামান অববাহিকায় অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের ধারাবাহিক অনুসন্ধান কর্মসূচির অধীনে এটি হলো দ্বিতীয় নিশ্চিত হাইড্রোকার্বন বা গ্যাসের আবিষ্কার। রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি ওই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত মোট তিনটি অনুসন্ধানমূলক কূপ খনন করেছে, যার মধ্যে দু’টিতেই বিপুল পরিমাণ হাইড্রোকার্বনের নিশ্চিত সন্ধান মিলেছে। ভূ-তাত্ত্বিক ও খনিজ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের এই অববাহিকাটি মায়ানমার, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো হাইড্রোকার্বন ও জ্বালানি-সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর সঙ্গে একই ভৌগোলিক ও ভূ-তাত্ত্বিক বলয়ে (Geological Belt) অবস্থিত। ফলে মনে করা হচ্ছে, এই সাগরের নিচে এখনও এক বিশাল ও অব্যবহৃত জ্বালানির ভাণ্ডার লুকিয়ে রয়েছে, যা আগামী দিনে ভারতের শক্তির চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা নেবে।


