স্বাস্থ্য

লিপস্টিকের লালচে ছায়ায় লুকিয়ে ক্যানসারের আশঙ্কা!

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি বলছে, এই বাহ্যিক সৌন্দর্যের উপকরণের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

Truth Of Bengal: লিপস্টিক শুধু একটি প্রসাধনী নয়, এটি আজকের নারীদের রোজকার জীবনের অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি বলছে, এই বাহ্যিক সৌন্দর্যের উপকরণের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। বহু লিপস্টিকে পাওয়া যাচ্ছে বিষাক্ত ভারী ধাতু, যা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ফুসফুস ক্যানসার।(Lipstick Danger)

আরও পড়ুনঃ পুজোয় মুক্তি! নিয়োগ দুর্নীতির সমস্ত মামলায় জামিন পেলেন পার্থ

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক লিপস্টিকে সীসা (lead), ক্যাডমিয়াম (cadmium), বেরিলিয়াম (beryllium), থ্যালিয়াম (thallium) ও ক্রোমিয়াম (chromium)-এর মতো কার্সিনোজেনিক ভারী ধাতু থাকে। ডা. গীতাঞ্জলি পাতিল জানিয়েছেন, গবেষণায় দেখা গিয়েছে—৯৬% লিপস্টিকে সীসা, ৫১% তে ক্যাডমিয়াম, ৯০% তে বেরিলিয়াম এবং ৬১% তে থ্যালিয়াম মিলেছে। এই ধাতুগুলি ত্বক, ইনহেলেশন বা খাওয়ার মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।(Lipstick Danger)

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal

ভারতের বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন ফলাফল। যেমন, মোরাদাবাদের একটি গবেষণায় ৬০টি লিপস্টিকের মধ্যে সীসা এবং ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। আবার ভিভা কলেজ, ভিরারের একটি স্টাডিতে কিছু ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহৃত পাঁচটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডে সীসা বা ক্যাডমিয়াম না মিললেও, তামা, নিকেল, ক্রোমিয়াম ও জিঙ্ক-এর মতো ধাতু পাওয়া গেছে—যদিও তা অনুমোদিত সীমার মধ্যে।(Lipstick Danger)

ভারতের ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস আইনে রঙিন উপাদানে কিছু সীমা নির্ধারণ করা আছে (সীসা সর্বোচ্চ ২০ পিপিএম এবং অন্য ভারী ধাতু মিলিয়ে ১০০ পিপিএম পর্যন্ত)। তবে পুরো লিপস্টিক পণ্যে এসব ধাতুর পরিমাণের নির্দিষ্ট সীমা নেই এবং কোম্পানিগুলোকেও তা লেবেলে প্রকাশ করতে হয় না। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা অজান্তেই দীর্ঘদিন এই বিষাক্ত উপাদান শরীরে জমিয়ে ফেলেন।

বিশেষত ক্যাডমিয়াম সবচেয়ে ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এটি দীর্ঘ সময় শরীরে জমলে ফুসফুস ক্যানসার ও কিডনি ক্ষতি হতে পারে। যদিও কেউ লিপস্টিক ‘ইনহেল’ করেন না, তবে দীর্ঘদিন নিয়মিত ব্যবহারে এই ধাতুগুলি শরীরে জমে গিয়ে নানা রোগের সৃষ্টি করতে পারে বলে জানান ডা. সুলেমান লাধানি।

তবে চিন্তার পাশাপাশি সচেতনতা জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ, নিরাপদ বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে হবে। প্রাকৃতিক উপাদান যেমন বীজওয়্যাক্স, নারকেল তেল, বিটরুট পাউডার ইত্যাদি ব্যবহার করে তৈরি লিপস্টিক বা DIY লিপবাম ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে। এছাড়া অর্গানিক ও নিরীক্ষিত পণ্য বেছে নেওয়া উচিত।

সবশেষে বলা যায়, শুধুমাত্র সৌন্দর্যের পেছনে না ছুটে সুস্থতা ও নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে শরীরের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন বিষাক্ত উপাদান যেন আমাদের প্রতিদিনের রূপচর্চার অংশ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়া জরুরি।