রাজ্যের খবর

“ও বরাবরই নোংরা, ও সব পারে!”, এনকাউন্টারে স্বামীর মৃত্যুর পর বিস্ফোরক দাবি প্রভাস মণ্ডলের স্ত্রীর

“লাশ আমরা ছোঁব না”, প্রথমে অনড় থাকলেও শেষমেশ থানার উদ্দেশ্যে রওনা মা ও স্ত্রীর

Truth of Bengal: উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের ‘এনকাউন্টার’ মডেলের আদলে এবার খাস পশ্চিমবঙ্গে ঘটে গেল এক রোমহর্ষক ঘটনা! বারুইপুরের ১১ বছরের নাবালিকাকে পাশবিক ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে খতম হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে অকুস্থলে ঘটনার পুনর্নিমাণ (Reconstruction of Crime) করতে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের বন্দুক কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ।

বারুইপুর ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথম গ্রেফতার করেছিল এই প্রভাস মণ্ডলকে। তাকে ম্যারাথন জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই উদ্ধার হয়েছিল নাবালিকার বস্তাবন্দি ক্ষতবিক্ষত দেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে তদন্তের স্বার্থে প্রভাসকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরের সেই অকুস্থলে যায় পুলিশের একটি বিশেষ দল। তদন্তকারীদের দাবি, সেখানে গিয়ে আচমকাই পুলিশের এক অফিসারের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করেই গুলি চালাতে শুরু করে প্রভাস এবং অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে এবং অপরাধীকে রুখতে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ বাহিনীও। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

“দোষ করেছে তাই গুলি খেয়েছে”, স্বামীর মৃত্যুর পর একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন স্ত্রী

বুধবার সকালে পুলিশের তরফ থেকে প্রভাস মণ্ডলের পরিবারকে তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। স্বামীর এনকাউন্টারের খবর শুনে চোখের জল ফেলার বদলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রভাসের স্ত্রী। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্পষ্ট বলেন, “ও বরাবরই নোংরা চরিত্রের লোক ছিল। তাই বারুইপুরের এই নৃশংস কাজ ও করেনি, এমন দাবি আমি কোনওদিন করতে পারব না। ও এই জঘন্য কাজ করতেই পারে, ও সব পারে। বিয়ের পর থেকে আমার ওপর কম অত্যাচার করেনি! সেইসব সহ্য করেই সংসার করেছি। আজ দোষ করেছে, তাই পুলিশের গুলি খেয়েছে।”

“লাশ আমরা ছোঁব না”, প্রথমে অনড় থাকলেও শেষমেশ থানার উদ্দেশ্যে রওনা মা ও স্ত্রীর

ছেলের এমন কুর্কীতির কথা জেনে প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডলও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সকালে খবর পেয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “যে এমন পাপ করেছে, তার মড়া আমরা দেখতে যাব না, দেহ নিতেও যাব না। যা হয়েছে, একদম ঠিক হয়েছে।” তবে থানার পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়ার খাতিরে দেহ শনাক্তকরণ ও ময়নাতদন্তের পর তা নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রতিবেশীদের সাথে আলোচনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মা ও স্ত্রী শেষমেশ বারুইপুর থানার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এই এনকাউন্টারের পর বারুইপুরের আমজনতা ও নির্যাতিতার পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, ছাব্বিশের বাংলার বুকে এই ‘পুলিশি এনকাউন্টার’ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

Related Articles