স্বাস্থ্য

ডাক্তার আসার আগেই শেষ সব? আপনার এই ৫টি ছোট কাজই রুখে দিতে পারে মৃত্যু!

হার্ট অ্যাটাক থেকে রক্তক্ষরণ, জীবন বাঁচাতে ডাঃ লতিফের এই ৫ টোটকা কেন জানতেই হবে?

Truth of Bengal: ভারতে জরুরি পরিষেবার গাড়ি পৌঁছাতে গড়ে ১৫ মিনিটের বেশি সময় লাগে, আর গ্রামীণ এলাকায় এই সময়টা আরও দীর্ঘ। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, হার্ট অ্যাটাক বা মারাত্মক রক্তপাতের মতো ঘটনায় প্রতিটি সেকেন্ড মহামূল্যবান। যখন পেশাদার সাহায্য আসতে দেরি হয়, তখন আপনার হাতের কাছের সাধারণ জ্ঞানই হয়ে উঠতে পারে কারও বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন।

শারদাকেয়ার-হেলথসিটি-র এমার্জেন্সি মেডিসিন বিভাগের ক্লিনিক্যাল হেড ডাঃ সাইফা এম. লতিফ জানান, “ভারতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসার সচেতনতা আশঙ্কাজনকভাবে কম। অথচ জীবন বাঁচাতে আপনার কোনও ডাক্তারি ডিগ্রি বা দামি সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ।” বাড়িতে, রাস্তায় বা কর্মক্ষেত্রে কারও প্রাণ বাঁচাতে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের এই ৫টি কৌশল জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি:

১. কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট চিনুন ও সি-পি-আর (CPR) শুরু করুন কেউ হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে দেরি না করে সি-পি-আর শুরু করুন। ডাঃ লতিফের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথমে তাকে আলতো ধাক্কা দিয়ে ডাকার চেষ্টা করুন। সাড়া না দিলে বুকের ঠিক মাঝখানে জোরে এবং দ্রুত চাপ দিতে থাকুন। প্রতি মিনিটে অন্তত ১০০ থেকে ১২০ বার এবং ৫ সেন্টিমিটার গভীরতায় চাপ দিতে হবে। এতে কৃত্রিমভাবে শরীরে রক্তসঞ্চালন সচল থাকে।

২. রক্তপাত বন্ধে বিশেষ গুরুত্ব অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। যেখানে রক্তপাত হচ্ছে সেখানে কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে জোরে চেপে ধরে রাখুন। যদি হাত বা পা থেকে অতিরিক্ত রক্ত পড়ে, তবে ক্ষতের কিছুটা উপরে কাপড় বা ফিতে দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিন (টরনিকেট)। ডাঃ লতিফ বলেন, “রক্তক্ষরণে মৃত্যু হওয়ার চেয়ে টরনিকেটের জটিলতাকে ভয় পাওয়া বড় ভুল। প্রয়োজনে পেন বা লাঠি ব্যবহার করে কাপড়ের বাঁধন আরও শক্ত করুন যাতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।”

৩. জ্ঞানহীন ব্যক্তির জন্য ‘রিকভারি পজিশন’ যদি কেউ অজ্ঞান হয়ে যান কিন্তু শ্বাস চলে, তবে তাকে চিত করে না শুইয়ে একপাশে কাত করে শুইয়ে দিন (রিকভারি পজিশন)। এতে তার শ্বাস নেওয়ার পথ পরিষ্কার থাকে এবং বমি বা জিভ উল্টে শ্বাসরোধ হওয়ার ঝুঁকি কমে। এটি করতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় লাগে কিন্তু এটি জীবন বাঁচাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

৪. গলায় কিছু আটকে গেলে করণীয় শ্বাসরোধ হয়ে মানুষ কয়েক মিনিটে মারা যেতে পারে। কেউ বিষম খেলে বা গলায় কিছু আটকে কথা বলতে না পারলে তার পিঠের মাঝখানে পাঁচটি জোরে থাপ্পড় দিন। কাজ না হলে ‘হেইমলিচ ম্যানুভার’ বা পেটের উপরের অংশে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ধাক্কা দিন। রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে দ্রুত সি-পি-আর শুরু করতে হবে।

৫. স্ট্রোক চিনতে মনে রাখুন ‘BE-FAST’ ব্রেন স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে লক্ষ লক্ষ নিউরন মারা যায়। তাই লক্ষণ চেনা জরুরি। ভারসাম্য হারানো (Balance), চোখে ঝাপসা দেখা (Eyes), মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া (Face), হাত তুলতে না পারা (Arms) এবং কথা জড়িয়ে যাওয়া (Speech)- এই লক্ষণগুলো দেখলেই বুঝবেন সময় (Time) শেষ হয়ে আসছে। দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

ভারতের জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু প্রথম কয়েক মিনিটের লড়াই লড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। আপনার একটু সচেতনতা ও সাহসই পারে একটি নিভে যাওয়া প্রাণকে আবার ফিরিয়ে আনতে।