সকালে এক কাপ নীল চা! স্ট্রেস কমবে ম্যাজিকের মতো, অপরাজিতার এই গুণ কি জানতেন?
ক্যাফেইনমুক্ত এই পানীয়টি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
Truth of Bengal: আজকালকার কর্মব্যস্ত জীবনে মানসিক প্রশান্তি খুঁজতে অনেকেই ঝুঁকছেন ভেষজ পানীয়ের দিকে। এই তালিকায় বর্তমানে সবথেকে জনপ্রিয় নাম হলো ব্লু টি বা নীল চা। অপরাজিতা ফুলের পাপড়ি থেকে তৈরি এই চা শুধুমাত্র তার উজ্জ্বল নীল রঙের জন্যই নয়, বরং বহুমুখী স্বাস্থ্যগুণের কারণেও চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের নজর কেড়েছে। ক্যাফেইনমুক্ত এই পানীয়টি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এই নীল চা বা অপরাজিতা ফুলকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখা হয়। শাস্ত্রে একে অপরাজিতা ছাড়াও শঙ্খপুষ্পী বা গোকর্ণ বলা হয়ে থাকে। আধুনিক বিজ্ঞানে এটি বাটারফ্লাই পি বা এশিয়ান পিজিয়নউইংস নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন সকালে এই নীল চা পান করলে শরীরের কর্টিসল হরমোনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এই কর্টিসল হলো আমাদের শরীরের প্রধান স্ট্রেস হরমোন। স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে শরীরে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনাই এই ভেষজ পানীয়ের প্রধান কাজ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ কমাতে নীল চা কার্যকরী হলেও এটি একক সমাধান নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরচর্চা এবং সঠিক পুষ্টির পাশাপাশি এটি একটি সহায়ক অভ্যাস হিসেবে কাজ করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অপরাজিতা ফুলে থাকা টার্নাটিনস নামক একটি উপাদান স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও এতে থাকা ফ্লেভোনয়েড এবং অ্যান্থোসায়ানিন শরীরের কোষগুলিকে দূষণ ও মানসিক চাপের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এমনকি মেমরি বা স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ বৃদ্ধিতেও এই চায়ের ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে দাবি করা হয়েছে। সকালে ঈষদুষ্ণ জলে হালকাভাবে ভিজিয়ে এই চা পান করলে শরীর দ্রুত এর গুণাগুণ শোষণ করতে পারে।
তবে কোনো প্রাকৃতিক উপাদানই অতিরিক্ত ভালো নয়। নীল চায়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। অতিরিক্ত নীল চা পানে বমি ভাব, পেটের সমস্যা বা ডায়েরিয়া হতে পারে। এর স্বাদ কিছুটা কড়া হওয়ার কারণে অনেকেই এতে মিষ্টি ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ যাঁরা নিয়মিত খাচ্ছেন, তাঁদের জন্য নীল চা পানের আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ এই চা রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে, যা ওষুধের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলাদের জন্য এই চা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়, কারণ এটি হরমোনের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নীল চা পানের পর অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঝিমুনি ভাবও দেখা দিতে পারে। তাই সুস্থ ও নিরোগ ব্যক্তিদের জন্য এটি নিয়মিত পান করা নিরাপদ হলেও, শারীরিক কোনো সমস্যা থাকলে প্রতিদিন সকালে নীল চা শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে, একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে নীল চা হতে পারে আপনার নতুন দিনের এক সতেজ শুরু।



